সারা দেশে ধারাবাহিকভাবে শিশু ও নারী ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পিস ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস (PIHR) পরিবার।
শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং শিশুদের অভিভাবকরা অংশ নেন। তারা বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহিদুল করিম কচি। বক্তব্যে তিনি বলেন,
সমাজে কিছু মানুষ নরপিশাচে পরিণত হয়েছে। মাত্র তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যাও করতে তাদের দ্বিধা হয়নি। এ ধরনের নরপিশাচ সমাজ ও দেশের জন্য ভয়ংকর হুমকি। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (চট্টগ্রাম) মো. সালাম চৌধুরী এবং PIHR-এর সিনিয়র সভাপতি হেলাল উদ্দিন সিকদার। তিনি বলেন,
একজন পুরুষ হিসেবে আজ এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে লজ্জা লাগে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট শিশুদের গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। এসব অমানুষের একমাত্র শাস্তি ফাঁসি হওয়া উচিত।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পিস ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মানবিক কামরুল কায়েস চৌধুরী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন,
পিস ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। কারণ নীরবতা অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেয়। আমরা কখনো অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার পক্ষে নই।
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যার কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরে বলেন, গত প্রায় ১১ দিনে দেশে অন্তত সাতটি শিশু হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যার অধিকাংশই ধর্ষণের শিকার। মিরপুর, মুন্সীগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, সিলেট, চট্টগ্রামের বাকলিয়া ও হাজীপাড়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনা সমাজকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন,
গত দুই সপ্তাহ ধরে সারা বাংলাদেশে শিশুরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। আজ PIHR পরিবারের প্রায় পাঁচ শতাধিক সদস্য শুধুমাত্র এই জঘন্য অপরাধীদের বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। আমরা ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসি দাবি করছি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অনেক সময় আদালতে এসব অপরাধীর পক্ষ নিয়ে কিছু অসাধু আইনজীবী অবস্থান নেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা কামনা করেন।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. ইমরান, তুহীন চৌধুরী, আফরোজা সুলতানা পূর্ণিমা, মো. মামুন, মো. শাহীন, শাহাদাত হোসেন, মো. রিপন, টিনা আক্তার, জুলি আক্তার, তসলিম হৃদয়, আলমগীর আলো, রাহুল, রিদোয়ান সিদ্দিকী, বেলাল আহমেদ, আলমগীর হোসেন, অ্যাডভোকেট কোরবান আলী, মো. নিশান, রাসেল, সৌরভ ভট্টাচার্য, রুবেল দাশ, অজিত কুমার দে, অমিত, প্রিয়াঙ্কা বড়ুয়া, তানহা আক্তার, শুভ দাশ, সাগর দে, মুনতাসির, রিদওয়ান রেজাসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানান।
এদিকে, তিন থেকে চার বছর বয়সী শিশুরাও তাদের বাবা-মায়ের হাত ধরে মানববন্ধনে অংশ নেয়। উপস্থিত অভিভাবকরা বলেন, নিরাপদ সমাজ ও শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
Leave a Reply