চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে ৬টি পৃথক কমিটি গঠন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। নগরীর বিভিন্ন খাল, ড্রেন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় সমন্বিতভাবে কাজ ত্বরান্বিত করতে এসব কমিটি গঠন করা হয়।
সোমবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় মেয়র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, পরিচ্ছন্ন বিভাগ, তদারকি কর্মকর্তা ও ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সভায় নগরীর খাল, ড্রেন, কালভার্ট, সংযোগ নালা ও সড়কের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
মেয়র বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে এখন আর কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। কোথায় কী সমস্যা, কোন খাল বা ড্রেন বন্ধ রয়েছে কিংবা কোথায় পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে—এসব দ্রুত শনাক্ত করে সমাধান করতে হবে।
তদারকিতে শীর্ষ কর্মকর্তারা
গঠিত কমিটিগুলোর সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান।
খালভিত্তিক পৃথক কমিটি
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ খাল ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে পৃথকভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে,
হিজরা খাল: তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জোবাইদা আক্তারসহ সংশ্লিষ্টরা
জামাল খান খাল: একই সমন্বয়ে পৃথকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
রামপুর খাল: আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়বসহ সংশ্লিষ্টরা
গুলজার খাল: আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা রক্তিম চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা
মনোহরদি খাল: প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান ও মেয়রের উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ
চাঁদগাঁও-মুরাদপুর এলাকা: তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মৌমিতা দাশসহ সংশ্লিষ্টরা
এছাড়া ওয়াসার সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. আশরাফুল আমিন ও প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানকে। প্রকৌশলগত বিষয়ে পরামর্শ দেবেন প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজর
সভায় মেয়র বিশেষভাবে চাকতাই, মুরাদপুর, রামপুরা খাল, আজম পাহাড় খাল, গাউছিয়া রোড, রুপসা বেকারি এলাকা, গুলজারখাল ও মাদারবাড়ি এলাকার জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক স্থানে খাল ও ড্রেনে নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, এসব দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
রামপুরা ও আজববাহার খাল এলাকা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মেয়র বলেন, মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে। বর্ষার আগে অন্তত অস্থায়ীভাবে হলেও চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে সাময়িক কাজ করেও জনগণের কষ্ট লাঘব করতে হবে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে কড়াকড়ি
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অবহেলা সহ্য করা হবে না জানিয়ে মেয়র বলেন, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে সেবকদের উপস্থিতি ও কাজ সরাসরি তদারকি করা হবে। দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য ৩ হাজার রেইনকোট সরবরাহ করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ
সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিনে গিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন মেয়র। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে মতামত প্রদান করেন।
Leave a Reply