কক্সবাজার সদরে খুরুশকুল আর ভারুয়াখালী নিয়ে সংযোগ সেতুটি
বিগত পাঁচ বছর আগে শুরু হয়েছিল ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সেতুর নির্মাণকাজ। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখনো সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করা যায়নি। ফলে দুই পাড়ের লক্ষাধিকেরও অধিক মানুষের দুর্ভোগ যেন কাটছে না।
এলাকাবাসী বলছেন, ৩০ বছর আগে থেকে ভারুয়াখালী ও খুরুশকুলের মাঝখানে অবস্থিত জোয়ারিখাল নদের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি করে আসছিল। একটি ব্রিজের জন্য এলাকাবাসী অনেকবার মানববন্ধন করেছে। পরবর্তীতে ২০২১ সালে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু সম্পূর্ণ কাজ শেষ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পালিয়ে যায়। শুধু তাই নয়; একটি সেতু না থাকায় ডিঙিনৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হন
দুই ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষ।
বিশেষ করে রোগীদের পারাপারে ভোগান্তি বেশি। বর্ষা মৌসুমে নদটি উত্তাল থাকায় নৌকাডুবিসহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। এ সময় চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত নৌকা না থাকায় দুই পারের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। দুই ইউনিয়নে অন্তত কয়েক হাজার একর জমিতে লবণ, চিংড়ি, মাছ ও ধান চাষ করেন বাসিন্দারা। সেতু না থাকায় এসব পণ্য পরিবহনেও অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় বাসিন্দাদের নদটি পারাপারে দুর্ভোগ যেন কাটছে না।
তারা বলেন, এমপি লুৎফুর রহমান কাজল রবিবার সেতুটি পরিদর্শন করেছেন। আশা করি তিনি অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জনগনের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দিবেন, এটাই জনগনের প্রত্যাশা।
গেল রবিবার (০৩ মে ) বিকেল ৪টার পর নির্মাণাধীন ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সেতু এলাকা ঘুরে দেখেন কক্সবাজার -৩ ( সদর, রামু ঈদগাঁও ) আসনের সংসদ সদস্য জননেতা লুৎফুর রহমান কাজল।
ওইদিন তিনি সেতু পরিদর্শনে যাওয়ার কথা শোনে সেতু এলাকায় আগে থেকে অবস্থান নেয় দুই পাড়ের শত শত মানুষ। এমপিকে কাছে পেয়ে কষ্টের কথা তুলে স্থানীয়রা এবং তাঁদের সকলের কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এমপি কাজল।
এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন, কক্সবাজার জেলা এলজিইডির প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুজ্জামান, সদর উপজেলা এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন ও তৌহিদুল ইসলাম।
পরিদর্শন শেষে এমপি কাজল বলেছেন,
“জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও জনদুর্ভোগ লাঘবে ভারুয়াখালী-খুরুশকুলে নির্মাণাধীন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে আর বিলম্ব করা ঠিক হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেতুর কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বলে দেওয়া হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।”
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৩৯২ মিটার দীর্ঘ ‘ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সেতু’ প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন ও এম এ জাহের লিমিটেড। সেতুর জন্য বরাদ্দ হয় ৩৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ বছর। গেলো ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারীতে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু, তিন বছরের জায়গায় পাঁচ বছর চলে গেলেও শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ।
খুরুশকুল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন বলেন, “একটি সেতুর কারনে দুই ইউনিয়নের মানুষের কষ্টের সীমা নেই। এমপি লুৎফুর রহমান কাজল সেতু পরিদর্শন করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের কথাও বলেছেন। আশা করি তার নির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু জনগনের জন্য খুলে দেওয়া হবে।”
সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুল মাবুদ বলেন, “দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নৌকা নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয়। রোগীদের আর-ও বেশি কষ্টে পেতে হয়। অনেক সময় ঘাট বন্ধ হয়ে গেলে নৌকাও পাওয়া যায়না। এ অবস্থায় ২৫ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে শহরে পৌঁছাতে হয়। সেতুটি চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে লবন, চিংড়ি ও কৃষি জাত পণ্য আমুল পরিবর্তন আসবে।”
ভারুয়াখালীর বাসিন্দা বাসিন্দা ফজল আহমেদ। শহরে তার একটি ঔষধের দোকান আছে। প্রতি সপ্তাহে একবার তিনি বাড়িতে যান। একটি সেতুর কারনে বাড়ি থেকে শহরে পৌঁছাতে তাঁর দুই ঘন্টারও বেশি সময় লাগে বলে জানান। এই সময়ের মধ্যে জিএনজি, টমটম ও নৌকায় গাড়ি বদল করতে হয়। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, ভোগান্তিও বাড়ছে।
ভারুয়াখালী এলাকায় নবী আহমেদ বলেন, “কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ডিঙিনৌকা দিয়ে পার হয়ে গন্তব্য যেতে হয়েছে। সামনে বর্ষাকাল; এই সময়টা অনেক বেশি ঝুকিপূর্ণ।”
বর্ষার আগেই ভারুয়াখালী- খুরুশকুল সংযোগ সেতুর কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Leave a Reply