1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
কালিহাতীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে তিন গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ - দৈনিক আমার সময়

কালিহাতীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে তিন গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ

জাহাঙ্গীর আলম, কালিহাতী (টাঙ্গাইল) :
    প্রকাশিত : বুধবার, ৫ মার্চ, ২০২৫

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে তিনগ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় দ্বিতীয় দিনেও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার শোলাকুড়া বাসস্ট্যান্ড বাজারে একটি শালিস বসে। শালিসে পক্ষপাতিত্বের জেরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে তিন গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর পর সাকরাইল গ্রামের মসজিদ থেকে মাইকের শব্দ আসছে যার যা কিছু আছে হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসো।

সোমবার (৩ মার্চ) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কয়েক দফায় সংঘর্ষ চলে উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের  শোলাকুড়া বাসস্ট্যান্ড বাজারে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫-২০ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় শোলাকুড়া বাজারের ২০ থেকে ২৫টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এসময় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংড়া ইউনিয়নের ‘পীরসাব’ বাড়িতে একই ইউনিয়নের মুলিয়া এবং সাকরাইল গ্রামের ছেলেদের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসা করতে সোমবার সকালে শোলাকুড়া বাসস্ট্যান্ড বাজারে একটি শালিশের আয়োজন করা হয়। ওই শালিশে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদ বিরোধ মিটিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেন। বৈঠক চলাকালে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদের পক্ষপাতিত্বমূলক কথার জের ধরে পুনরায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে বিএনপি নেতা শুকুর মাহমুদের মাথায় আঘাত লাগলে গুরুতর আহত হন তিনি। আহত হওয়ার খবর তার নিজ গ্রাম সহদেবপুর পৌঁছালে তারাও এসে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এরপর ত্রিমুখী সংঘর্ষে সালিশী বৈঠকে আসা স্থানীয় বিএনপি’র দুই পক্ষের অন্তত ১৫-২০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। এ সময় শোলাকুড়া বাজারে হামলা চালিয়ে ২০ থেকে ২৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং দোকানগুলোতে লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের তিনদিকে তিন গ্রামবাসী অবস্থান নিয়ে দফায় দফায় লাঠি শো-টা,  ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় ওই মহাসড়কে সকল প্রকার যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপি নেতাসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়।  পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ  এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে সাথে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তারই ধারাবাহিকতায়, মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সকালে দ্বিতীয় দিনে সহদেবপুর ও মুলিয়া গ্রামবাসী বিএনপি নেতা শুকুর মাহমুদ সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাদের বিচারের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ৩০-৪০ মিনিট  অবরোধ করে রেখে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এরপর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দাওয়ায় ছত্রভঙ্গ হয়ে সহদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সবাই একত্রিত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য আহত শুকুর মাহমুদকে হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে এসে এলাকাবাসীকে শান্ত করে যার যার ঘরে ফিরে যেতে বলেন। শুকর মাহমুদ সোলাকুড়া বাসস্ট্যান্ডে অবস্থানরত উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পুলিশ, ডিবি ও সেনাবাহিনী অফিসারদের সাথে কথা বলে আর কোন প্রকার সংঘর্ষ না হওয়ার আশ^াস দিয়ে হাসপাতালে চলে যান।

এ প্রসঙ্গে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, অনাকাঙ্খিত ঘটনায় তিন গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। গতকাল স্থানীয় নেতার গায়ে হাত তুলার কারণে দোকান ভাঙচুর করে। আজকে আবার কোন ঘটনা ছাড়াই তারা দুই গ্রাম সংঘটিত হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাওয়ায় ছত্রভঙ্গ হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com