1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
কনট্যাক্ট লেন্স কথন - দৈনিক আমার সময়

কনট্যাক্ট লেন্স কথন

অনলাইন ডেস্ক
    প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০২৫

ফ্যাশন বা অন্যান্য প্রয়োজনে অনেকেই চশমার বদলে কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন। বাজারে বিভিন্ন ধরনের কনট্যাক্ট লেন্স পাওয়া যায়, যার মান ও দামের পার্থক্যও অনেক। কনট্যাক্ট লেন্সের ধরন

সরাসরি চোখের কর্নিয়ার ওপর বসানো ছোট্ট লেন্সকে বলা হয় কনট্যাক্ট লেন্স। এটি সাধারণত পাতলা মেডিক্যাল গ্রেড প্লাস্টিকের তৈরি হয়ে থাকে। ব্যবহার অনুযায়ী সেটি হতে পারে স্বচ্ছ বা ঈষদচ্ছ। সব কনট্যাক্ট লেন্সে পাওয়ার দেওয়া হয় না।

দৃষ্টিশক্তি ঠিক করার চশমার বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত লেন্সে পাওয়ার থাকে। ফ্যাশন বা অন্যান্য কাজের জন্য চোখের রং পরিবর্তনেও কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে পাওয়ার না-ও দেওয়া হতে পারে। ধরন

বাজারে দুই ধরনের কনট্যাক্ট লেন্স পাওয়া যায়—

সফট লেন্স : নরম প্লাস্টিকের তৈরি লেন্স।

নমনীয় হওয়ায় এটি চোখের জন্য আরামদায়ক। এর জনপ্রিয়তাও বেশি। এ ধরনের লেন্সের স্থায়িত্ব কম, কিছু লেন্স মাত্র একবার ব্যবহারের পরই ফেলে দিতে হয়। এর ব্যবহারযোগ্যতা এক দিন থেকে এক মাস বা এক বছর পর্যন্ত হতে পারে।
রিজিড গ্যাস পারমিয়েবল (আরজিপি)   লেন্স : এ ধরনের লেন্সগুলো নমনীয় নয়, বরং শক্ত। এই ঘরানার লেন্সের আছে দুটি ধরন—স্ক্ল্যারাল ও অর্থো-কে। শক্ত হওয়ায় এই লেন্সগুলো ব্যবহারে অস্বস্তি হওয়ার আশঙ্কাও বেশি থাকে। তবে এ ধরনের লেন্সের স্থায়িত্ব অনেক বেশি—কিছু ক্ষেত্রে তিন বছর পর্যন্ত।

যাঁদের অ্যাস্টিগম্যাটিজম আছে, স্পষ্ট দৃষ্টিশক্তির জন্য লেন্সে নিখুঁত পাওয়ার থাকা খুবই জরুরি, তাই এর চিকিৎসায় আরজিপি লেন্স ব্যবহার বেশি প্রচলিত।

দৃষ্টিশক্তি সংশোধনের জন্য : যাঁদের দূরে দেখতে সমস্যা হয়, অর্থাৎ মাইয়োপিয়া বা অ্যাস্টিগম্যাটিজম আছে, তাঁদের চিকিৎসায় অনেক সময় চশমার বদলে কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। চশমা ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে এমন কোনো কাজের ক্ষেত্রে বা শুধু ফ্যাশনের অংশ হিসেবেও অনেকে চশমার বদলে কনট্যাক্ট লেন্স বেছে নেন।

প্রসাধনমূলক বা ফ্যাশনের জন্য : এখন পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্যাশনের খাতিরে চোখের রং পরিবর্তন করেন অনেকেই। এ ক্ষেত্রে পাওয়ারহীন সফট লেন্স বেশি ব্যবহৃত হয়।

 

যা দেখে কিনবেন

কনট্যাক্ট লেন্স ভালো মানের হতে হবে। স্বনামধন্য প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের বাইরে লেন্স কেনা একেবারেই অনুচিত। নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের মধ্যে আছে আকুভিউ, বাউস অ্যান্ড লোম্ব, সিভা ভিশন, অ্যালকোন ও জনসন অ্যান্ড জনসন ভিশন। এ ছাড়া আরো কিছু ব্র্যান্ডের কনট্যাক্ট লেন্স দেশের বাজারে পাওয়া যায়, যে গুলোর মান যাচাই করা মুশকিল। তাই কনট্যাক্ট লেন্স কেনার আগে অবশ্যই একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কেনার সময় অবশ্যই লেন্সটি যে সলিউশনে ডুবিয়ে রাখতে হয়, তার মেয়াদ আছে কি না পরীক্ষা করে দেখুন।

 

ঝুঁকি

► পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে চোখে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাঙ্গাস সংক্রমণ হতে পারে। এর থেকে কর্নিয়ার সংক্রমণ ঘটাও সম্ভব।

► দীর্ঘ সময় কনট্যাক্ট লেন্স পরে থাকলে চোখে শুষ্কভাব ও জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে।

► চোখের কর্নিয়া পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে লেন্স, যা দীর্ঘ মেয়াদে কর্নিয়ার ক্ষতির কারণ হতে পারে।

► কিছু ক্ষেত্রে লেন্স বা লেন্সের সলিউশনের উপাদানে ব্যবহারকারীর অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।

► লেন্স সঠিকভাবে না পরলে চোখের কর্নিয়া বা স্ক্লেরায় আঁচড় বা ক্ষত হতে পারে।

 

সতর্কতা

► সব সময় পরিষ্কার বা সাবান দিয়ে ধোয়া হাতে লেন্স ব্যবহার করুন।

► লেন্স পরিষ্কারের জন্য শুধু নির্ধারিত সলিউশন ব্যবহার করুন।

► লেন্স পরে ঘুমানো উচিত নয়।

► নির্দিষ্ট সময় পর লেন্স বদলান। মেয়াদোত্তীর্ণ লেন্স ব্যবহার বিপজ্জনক।

► লেন্স পরার পর মেকআপ ব্যবহার করুন এবং মেকআপ তোলার আগে লেন্স খুলে ফেলুন।

► চোখে ব্যথা, লালচে ভাব, ঝাপসা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে লেন্স খুলে ফেলুন এবং একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

 

লেখক : চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com