ফ্যাশন বা অন্যান্য প্রয়োজনে অনেকেই চশমার বদলে কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন। বাজারে বিভিন্ন ধরনের কনট্যাক্ট লেন্স পাওয়া যায়, যার মান ও দামের পার্থক্যও অনেক। কনট্যাক্ট লেন্সের ধরন
বাজারে দুই ধরনের কনট্যাক্ট লেন্স পাওয়া যায়—
সফট লেন্স : নরম প্লাস্টিকের তৈরি লেন্স।
যাঁদের অ্যাস্টিগম্যাটিজম আছে, স্পষ্ট দৃষ্টিশক্তির জন্য লেন্সে নিখুঁত পাওয়ার থাকা খুবই জরুরি, তাই এর চিকিৎসায় আরজিপি লেন্স ব্যবহার বেশি প্রচলিত।
প্রসাধনমূলক বা ফ্যাশনের জন্য : এখন পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্যাশনের খাতিরে চোখের রং পরিবর্তন করেন অনেকেই। এ ক্ষেত্রে পাওয়ারহীন সফট লেন্স বেশি ব্যবহৃত হয়।
যা দেখে কিনবেন
কনট্যাক্ট লেন্স ভালো মানের হতে হবে। স্বনামধন্য প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের বাইরে লেন্স কেনা একেবারেই অনুচিত। নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের মধ্যে আছে আকুভিউ, বাউস অ্যান্ড লোম্ব, সিভা ভিশন, অ্যালকোন ও জনসন অ্যান্ড জনসন ভিশন। এ ছাড়া আরো কিছু ব্র্যান্ডের কনট্যাক্ট লেন্স দেশের বাজারে পাওয়া যায়, যে গুলোর মান যাচাই করা মুশকিল। তাই কনট্যাক্ট লেন্স কেনার আগে অবশ্যই একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কেনার সময় অবশ্যই লেন্সটি যে সলিউশনে ডুবিয়ে রাখতে হয়, তার মেয়াদ আছে কি না পরীক্ষা করে দেখুন।
ঝুঁকি
► পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখলে চোখে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাঙ্গাস সংক্রমণ হতে পারে। এর থেকে কর্নিয়ার সংক্রমণ ঘটাও সম্ভব।
► দীর্ঘ সময় কনট্যাক্ট লেন্স পরে থাকলে চোখে শুষ্কভাব ও জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে।
► চোখের কর্নিয়া পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে লেন্স, যা দীর্ঘ মেয়াদে কর্নিয়ার ক্ষতির কারণ হতে পারে।
► কিছু ক্ষেত্রে লেন্স বা লেন্সের সলিউশনের উপাদানে ব্যবহারকারীর অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।
► লেন্স সঠিকভাবে না পরলে চোখের কর্নিয়া বা স্ক্লেরায় আঁচড় বা ক্ষত হতে পারে।
সতর্কতা
► সব সময় পরিষ্কার বা সাবান দিয়ে ধোয়া হাতে লেন্স ব্যবহার করুন।
► লেন্স পরিষ্কারের জন্য শুধু নির্ধারিত সলিউশন ব্যবহার করুন।
► লেন্স পরে ঘুমানো উচিত নয়।
► নির্দিষ্ট সময় পর লেন্স বদলান। মেয়াদোত্তীর্ণ লেন্স ব্যবহার বিপজ্জনক।
► লেন্স পরার পর মেকআপ ব্যবহার করুন এবং মেকআপ তোলার আগে লেন্স খুলে ফেলুন।
► চোখে ব্যথা, লালচে ভাব, ঝাপসা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে লেন্স খুলে ফেলুন এবং একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
লেখক : চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
Leave a Reply