বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। আদালতের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে কোটা আন্দোলনকারিদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা ধৈর্য ধারণ করুন। আমার বিশ্বাস, আপনারা আদালতে ন্যায়বিচারই পাবেন। হতাশ হবেন না। ষড়যন্ত্রকারীদের সুযোগ করে দেবেন না। সংঘটিত সহিংসতার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বস্তি শান্তিতে থাকে, তখন এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা বেদনাদায়ক। ২০১৮ সালে সরকারি চাকুরিতে কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার। মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত সেই পরিপত্র বাতিল করে। সরকার তার বিরুদ্ধে আপিল করে। উচ্চ আদালত আপিলের শুনানির দিন ধার্য করেন। তখনই কোটাবিরোধীরা আন্দোলন শুরু করে।
শেখ হাসিনা বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনের ব্যাপারে সরকার ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। আন্দোলনকারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। তারা রাষ্ট্রপতির কাছে যেতে চেয়েছে, সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিতাপের বিষয়, কিছু মহল অনাকাক্সিক্ষত উচ্চাভিলাস চরিতার্থ করার জন্য এই আন্দোলনকে ব্যবহার করতে চাইছে। ফলে সহিংসতা হলো। অনেকগুলো মূল্যবান প্রাণ ঝরে গেলো। আপনজন হারানোর কষ্ট আমার চেয়ে বেশি কেউ জানে না। আমি নিহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাই। এসব ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত হবে।
সারাদেশের ক্যাম্পাসগুলোতে ঘটে যাওয়া সহিংসতা এবং শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, এই সহিংসতার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সম্পর্ক নেই। সন্ত্রাসীরা তাদের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। যারা এই সহিংসতায় জড়িত, তাদের ছাড়া হবে না। খুঁজে বের করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। সন্ত্রাসীরা তাদের ক্ষতি করতে পারে। আমি অভিভাবকদের বলবো, সন্তানের নিরাপত্তার দিকে নজর রাখুন।
Leave a Reply