শান্তি-সুশৃঙ্খল নগর ব্যবস্থাপনা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও দ্রুত অপরাধী শনাক্তে প্রশংসিত নতুন ডিআইজি
রংপুর রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় রংপুর রেঞ্জ কার্যালয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভ্যর্থনা জানানো হয়।
দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, অ্যাডিশনাল ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) ও অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশনস) শাহ মমতাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন পিপিএম, পুলিশ সুপার (ট্রাফিক অ্যান্ড অপারেশনস) বি. এম. আশরাফ উল্যাহ তাহের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইলিয়াছ হোসেন পিপিএম এবং সহকারী পুলিশ সুপার (স্টাফ অফিসার টু ডিআইজি) মো. নূরুজ্জামান চৌধূরীসহ রেঞ্জ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং পুলিশের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেন। তার দায়িত্বকালীন সময়ে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং ছিনতাই, চুরি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা জোরদার করার উদ্যোগ দেখা যায়। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি ও টহল কার্যক্রম বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তার নেতৃত্বে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও প্রশংসা পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশিং প্রতিষ্ঠার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। সাধারণ মানুষের কাছে বন্ধুসুলভ আচরণে সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় দ্রুততার সঙ্গে দুইজনকে আটক করার ক্ষেত্রে পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রমও জোরদার
করা হয় উক্ত তদন্তে।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে এমন একটি গুরুতর হত্যাকাণ্ডে দ্রুত সন্দেহভাজনদের আটক এবং তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াকে পুলিশের সক্ষমতা ও তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। মানুষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এত দ্রুত হওয়া অস্বাভাবিক হলেও বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। পুলিশের ভূমিকার কারণে এটা দ্রুত সম্ভব হয়েছে। পুলিশ যে দ্রুত আইনের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করতে পারছে, এর জন্য প্রশংসা করা প্রয়োজন সকলের।
পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অপরাধ সংঘটনের পর শুধু মামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে অপরাধের কারণ চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে গুরুত্ব দেন মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
মাদক, কিশোর অপরাধ, সন্ত্রাস, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অভিযান পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকরা যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি অভিভাবককে সন্তানের প্রতি নজর রাখতে হবে, যাতে সন্তান ভুল পথে না যায় এবং মাদকাসক্ত না হয়। সন্তান নিয়মিত পড়াশোনা করছে কি না, কার সঙ্গে মিশছে এবং কীভাবে সময় কাটাচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সন্তানদের মোবাইলে অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে রাখতে হবে। রাতে দ্রুত ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ভোরে উঠে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার জন্যও সন্তানদের উৎসাহিত করতে হবে।
তার এসব বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবারকেই প্রথম প্রতিরোধক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
জনগণের আস্থা অর্জনে জনমুখী পুলিশিং
মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের পুলিশিং দর্শনের অন্যতম দিক হলো জনগণের আস্থা অর্জন। পুলিশকে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে নয়, মানুষের বিপদে পাশে থাকা একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা, পেশাদার ও জনমুখী পুলিশিং নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং আধুনিক ও মানবিক পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে রংপুর রেঞ্জ পুলিশ কাজ করবে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার কর্মতৎপরতা ও নেতৃত্বে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নগরবাসীর অনেকেই। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, অপরাধ দমন, নগরীর শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের উদ্যোগ তার প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।
তার পদোন্নতি এবং রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণে রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।
রংপুরবাসীর প্রত্যাশা, মহানগরীতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার পুরো রংপুর রেঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন তিনি।
নতুন দায়িত্বে তার সামনে রয়েছে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ। রংপুর রেঞ্জের আট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তিশালী করা, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মহাসড়ক ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পুলিশের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রংপুরবাসীর প্রত্যাশা—দৃঢ় নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক পুলিশিংয়ের সমন্বয়ে মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের নেতৃত্বে রংপুর রেঞ্জ পুলিশ আরও জনবান্ধব, আধুনিক ও কার্যকর পুলিশিংয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় রংপুর রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তার সফল কর্মজীবন ও নতুন দায়িত্ব পালনে সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেছেন রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে রংপুর বিভাগের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ। রংপুর বিভাগের আট জেলার সকল থানায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং সকলে পুলিশের সেবা যেন সমানভাবে পায়, ন্যায় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছে।
Leave a Reply