1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
রংপুরে চার খুন: আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই করবে না রংপুর আইনজীবী সমিতি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি - দৈনিক আমার সময়

রংপুরে চার খুন: আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই করবে না রংপুর আইনজীবী সমিতি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

আলামীন রংপুর
    প্রকাশিত : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
oplus_131072

তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে আটক আসামিদের আইনগত সহযোগিতার আশ্বাস

রংপুরের মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাস (২৩) নামে দুইজনকে আটক করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত ২১ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার মাছুয়াপাড়া এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক দল মাঠে নামে।

পুলিশ জানায়, ম্যানুয়াল সোর্সিং, গোয়েন্দা তথ্য এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সিদ্ধার্থ দাসকে তার চাচার বাসা থেকে আটক করা হয়।

অপরদিকে, মুগ্ধ দাসকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটকের চেষ্টা করা হলে সে বাসার টিনের বেড়া ভেঙে পালিয়ে যায়। পরে গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে ধাওয়া করে। প্রায় এক ঘণ্টার অভিযানের পর তুতপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির দোতলায় যায়। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি তাদের চুরির উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানায়, ইয়াবা সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখতে পান। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তাকে গলায় থাকা গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে তারা জানিয়েছে। পরে মরদেহটি ছাদে থাকা টিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।

এ সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী ও মেয়ে দোতলায় উঠে এলে তাদেরও সিঁড়ির মধ্যে গলায় ওড়না/দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। পরে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে জিনিসপত্র নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে গণপতি চক্রবর্তীর পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে প্রিয়মকেও তার শয়নকক্ষে একই কায়দায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে আটক দুজন জানিয়েছে। আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সামগ্রী, লুণ্ঠিত বা নিয়ে যাওয়া মালামাল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই করবে না আইনজীবী সমিতি

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি। শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন ও সভাপতি অ্যাডভোকেট সাহেদ কামাল ইবনে খতিব।

রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এ ধরনের অপরাধ নির্মূল করার জন্য মূলত এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “একটা মামলার বাদী-বিবাদী সকলের আইনজীবীদের সহযোগিতা পাওয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু মানবিক দিক দেখলে অপরাধ কমানো যাবে না। দুইজন মিলে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা করে পরিবারকে নির্বংশ করে দিয়েছে। এটা আমরা কেউ কাম্য করি না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আইনজীবী। আমরা টাকার জন্য বিচারকার্যে লড়াই করি না। ন্যায়-অন্যায়ের বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমরা আদালতে দাঁড় হয়ে থাকি। ন্যায়বিচার কে চায় না, সকলেই আমরা ন্যায়বিচার চাই। এভাবে নৃশংসতার মধ্য দিয়ে একটা পরিবারকে শেষ করে দিলো, এটা আমাদের জন্য মেনে নেওয়া নয়। তাই তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে এমন কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হয়েছে।”

অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন বলেন, “চার খুন হওয়া পরিবারকে আমরা আশ্বস্ত করছি, আমরা সকল আইনি সহযোগিতা করবো, যেন তারা সুষ্ঠু বিচার পায়।”

তিনি আরও বলেন, “মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। নতুন নতুন তথ্য আসছে। যদি পরবর্তী তথ্য-উপাত্তে অন্য কিছু উদঘাটিত হয় এবং আটককৃত আসামি নির্দোষ হয়, তাহলে তাদেরও সহযোগিতা করার কথা আমরা বলেছি।”

হত্যার ঘটনাকে রাজনৈতিক ইস্যু না করার আহ্বান

রংপুর আইনজীবী সমিতির নেতারা চার খুনের ঘটনাকে রাজনৈতিক ইস্যু না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তারা বলেন, “এই মৃত্যুর রহস্য রাজনৈতিক ইস্যু না করার জন্য আমরা সকলকে আবেদন করছি। এটা যেন সুষ্ঠু বিচার হয়, সেদিকে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। অনেকে অনেক ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতা থেকে শুরু করে উস্কানিমূলক কথা বলতেছে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

তারা আরও বলেন, আটককৃত আসামিরা জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এবং মালামালও উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় স্বর্ণকারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের কথাও জানানো হয়েছে।

অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করে তারা বলেন, চলমান তদন্তে কারও কাছে কোনো তথ্য-উপাত্ত থাকলে তা পুলিশকে দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি নগর প্রশাসকের

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, “মাছুয়াপাড়ার এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক। সমাজে অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি বলেন, “সত্য উদঘাটন করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কোনো অপরাধ বা অপরাধীর বিষয়ে তথ্য জানা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক আইনি কার্যক্রমের আওতায় আনা গেলে সমাজে অপরাধ দমনে ইতিবাচক বার্তা যাবে।”

মাহফুজ উন নবী ডন আরও বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে জন্য সামাজিক সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।”

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com