বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহিদ আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঞ্চিত রংপুরসহ সমগ্র বাংলাদেশকে উন্নয়নের আলোয় আলোকিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বিশেষ স্মরণসভায় অংশগ্রহণের আগে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ১৬ জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে। তিনি বলেন, “বঞ্চিত রংপুরকে উন্নয়নের মূলধারায় এনে আলোকিত করাই আমাদের লক্ষ্য। জুলাইয়ের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
তিনি আরও জানান, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস ও আদর্শ সংরক্ষণ এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পৃথক দপ্তর গঠন করা হয়েছে। এই চেতনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে বিচার হবে সম্পূর্ণ আইনের শাসনের ভিত্তিতে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “১৬ জুলাই আবু সাঈদের রক্তে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। জুলাই যোদ্ধাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু সাঈদের বাবা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আশরাফুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সিসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন।
এর আগে অতিথিরা রংপুর নগরীর টাউন হল এলাকায় নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাদের আদর্শ ধারণ করেই বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
Leave a Reply