ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকা সত্ত্বেও পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে বিভিন্ন রোগ নির্ণয় সংক্রান্ত পরীক্ষা করানোর অভিযোগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে বদলি করা হয়েছে। তবে বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ এখনও বহাল থাকায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি প্যাথলজি বিভাগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে রোগ নির্ণয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর বিষয়টি বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন অভিযুক্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শোয়েব আহমেদকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করেন।
অন্যদিকে একই ঘটনায় শোকজপ্রাপ্ত প্যাথলজি বিভাগের ইনচার্জ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রেজাউল করিম এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। এ নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, হাসপাতালের এক প্রভাবশালী চিকিৎসকের আত্মীয় হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, অনিয়মের অভিযোগের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রেজাউল করিম ও শোয়েব আহমেদ—দুজনকেই কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করে। শোকজের বিষয়টি গোপনীয় থাকার কথা থাকলেও তা প্রকাশ্যে চলে এলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, অভিযোগের সত্যতা না থাকলে শোকজ কেন দেওয়া হলো, আর অভিযোগের ভিত্তি থাকলে কেবল একজনকে বদলি করে বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বহাল রাখার কারণ কী?
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্যাথলজি বিভাগের পরীক্ষার ফলাফলের ওপরই একজন রোগীর চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। সেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পরিবর্তে পরিচ্ছন্নতাকর্মী দিয়ে পরীক্ষা-সংক্রান্ত কাজ করানো হলে ভুল রোগ নির্ণয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা রোগীর জীবনের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
সচেতন নাগরিকদের মতে, একটি সরকারি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, “বিভিন্ন দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্যাথলজি বিভাগের রেজাউল করিম ও শোয়েব আহমেদকে শোকজ করা হয়েছিল।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া বলেন, “মূল অভিযুক্ত শোয়েব আহমেদকে বদলি করা হয়েছে। তবে বিভাগের ইনচার্জকে সতর্ক করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, অভিযোগ রয়েছে যে প্যাথলজি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনোলজিস্টরা নিজেরা দায়িত্ব পালন না করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে রোগ নির্ণয়ের রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
Leave a Reply