নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তির জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু সংখ্যালঘু পরিবারকে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার চাপ, প্রাণনাশের হুমকি এবং বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি। এ ঘটনায় বড়াইগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী যুবক হৃদয় মাঝি (২২)।লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আটঘরিয়া কারিগরপাড়া গ্রামের হৃদয় মাঝিদের পরিবারের মালিকানাধীন বিরোধপূর্ণ জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ওই জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, পাশ্ববর্তী বাগাতিপাড়া উপজেলার চন্দ্রখৈল গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে জমিটি বেআইনিভাবে দখল করে ভোগদখল করে আসছেন।
ভুক্তভোগী হৃদয় মাঝির অভিযোগ, জমির মালিকানা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। একপর্যায়ে পরিবারটিকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলা হয়। এমনকি বিরোধপূর্ণ জমিতে গেলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে এসে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে বসতবাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বেড়া ও টিনের চালা ভাঙচুর করা হয়। প্রাণভয়ে আত্মগোপনে থেকে ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন বলেও জানিয়েছেন হৃদয় মাঝি।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, সংখ্যালঘু পরিবার হওয়ায় তারা বর্তমানে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। পৈতৃক ভিটেমাটি ছেড়ে দিলে তাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা থাকবে না বলেও জানান তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রেনুকা বেওয়ার ছেলে নাসির শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিটি আমাদের। তাদের থাকতে দেওয়া হয়েছে, তারা থাকুক আমাদের কোনো সমস্যা নেই। বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগকে তিনি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন। তবে অন্যান্য অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply