সমুদ্রের গর্জন আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে মুখরিত কক্সবাজারের সুগন্ধা, লাবনী ও কলাতলী পয়েন্ট। হাজারো পর্যটকের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে সৈকত, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে চারপাশ।
এর মাঝে গেল টানা ছুটিতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এখনো বইছে উৎসবের আমেজ। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুরু হওয়া মানুষের আগমনে ৮ম দিনে এসেও সৈকত পাড়ে উপচে পড়া ভীড়।
সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী, সীগাল, দরিয়ানগর, ইনানী ও হিমছড়ি পয়েন্টজুড়ে হাজার হাজার পর্যটকের পদচারণায় মুখর কক্সবাজার। বিপুল সংখ্যক পর্যটক উপস্থিতির কারনে শহরের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
সৈকতের বালুচরে দেখা গেছে, শিশু-কিশোররা সাগরের ঢেউয়ে জলকেলিতে মেতে ওঠে। কেউ ঘোড়ায় চড়ছেন, কেউ বিচ বাইক চালাচ্ছেন, আবার অনেকে পরিবার নিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ফুচকা, ঝালমুড়ি, ডাব, ভাজাপোড়া ও সামুদ্রিক খাবারের দোকানগুলোতে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত কয়েক মাসের তুলনায় এবারের ঈদে পর্যটকের চাপ অনেক বেশি।
পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপের কারণে কক্সবাজারের অধিকাংশ আবাসিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস ও রিসোর্টের কক্ষ পূর্ণ হয়ে গেছে। শহরের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টের বড় বড় হোটেলগুলো ঈদের আগেই অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন করে।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সহ-সভাপতি হোটেল গোল্ডেন হিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহেদ আলী বলেন, গত রমজানের বন্ধের সময় আশানুরূপ পর্যটক হয়নি। অনেক হোটেল ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হয়েছে। এবার কোরবানির ঈদে হোটেলের ৭০% কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে।
গাজীপুর থেকে আসা পর্যটক দম্পতি শালিক ও জসিম জানায়, রবিবার কক্সবাজার এসেছি ; তিনদিন থাকবো। সামনে স্কুল খুলবে; তাই আর সময় হবে না, বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে আসলাম।
চট্টগ্রামের চকবাজার থেকে আসা ব্যবসায়ী নুরুল আজিম বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার বেশিদূর নয়; বাচ্চাদের স্কুল ছুটি থাকলে প্রতিবার কক্সবাজার আলে আসি। সমুদ্রের পরিবেশ সত্যিই অসাধারণ লাগছে। তবে মানুষের ভিড় অনেক বেশি। তিনি বলেন, সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ময়লা, ঘোড়া, গরুর মলমূত্র দেখা গেছে। এসব পরিস্কার না করাতে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। জেলা প্রশাসন থেকে আর-ও নজর দিতে হবে।’
সৈকত পাড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলেন, অনেকদিন পর ভালো ব্যবসা হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষ আসছে। বিক্রিও ভালো। স্কুল যতদিন বন্ধ পর্যটকও ততদিন থাকবে এবং ব্যবসাও ভালো হবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র্যাব, জেলা পুলিশ ও লাইফগার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল জোরদার করা হয়েছে। সমুদ্রে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নামতে পর্যটকদের সতর্ক করছেন লাইফগার্ড সদস্যরা।
ট্যুরিস্ট কক্সবাজার জোনের পুলিশ
সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সৈকতের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
Leave a Reply