বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর উদ্যোগে রংপুর মহানগরীর তাজহাট থানা কমিটির আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয়তাবাদী আদর্শ, সাংস্কৃতিক চর্চা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ সভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও জাতীয়তাবাদী আদর্শকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। পাশাপাশি সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি দূরীকরণে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শাহ আলম। তিনি বলেন,
“দেশপ্রেম, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে জাসাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তরুণ সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি থেকে রক্ষা করতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে জাসাসকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।”
বিশেষ অতিথি আলমঙ্গীর হোসেন বলেন,
“জাসাস কেবল একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়, এটি জাতীয়তাবাদী চেতনা ও গণমানুষের অধিকারের পক্ষে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করা হবে।”
মোঃ আতাউর রহমান আতিক বলেন,
“দেশীয় সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে জাসাস ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।”
মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন,
“সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
মোছাঃ সোহাগী আক্তার বলেন,
“নারীদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়াতে জাসাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আগামী দিনে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশাবাদী।”
মোছাঃ বর্না বিশ্বাস বলেন,
“সাংস্কৃতিক চর্চা সমাজকে সুন্দর ও মানবিক করে তোলে। তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে জাসাসের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর তাজহাট মেট্রোপলিটন থানা জাসাসের সভাপতি মোঃ বাহাদুর আলম। তিনি বলেন,
“জাসাসের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী আদর্শ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।”
তাজহাট মেট্রোপলিটন থানা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম রাফি বলেন,
“সংগঠনের প্রতিটি ইউনিটকে সক্রিয় করে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা হবে। তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে জাসাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।”
সাংগঠনিক সম্পাদক রোকুনুজ্জামান সবুজ বলেন,
“তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি ও নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে নিয়মিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।”
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন,
“যুব সমাজকে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে জাসাস সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনে আরও বৃহৎ পরিসরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”
সহ-সভাপতি সুরুজ মিঞা বলেন,
“সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাসাস সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছে।”
প্রচার সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বলেন,
“জাসাসের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে প্রচার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।”
দপ্তর সম্পাদক মোছাঃ বিউটি বেগম বলেন,
“সংগঠনের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খল করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।”
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মোছাঃ শাহানাজ পারভীন বলেন,
“নারীদের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উন্নয়নে জাসাসের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো হবে।”
মহানগর সদস্য মোঃ সাদেক হোসেন বলেন,
“সাধারণ মানুষের কল্যাণে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে তাজহাট থানা ও রংপুর মহানগর জাসাসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী রংপুর দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সামাজিক সম্প্রীতি, সংস্কৃতি চর্চা এবং তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি জাসাসও ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
Leave a Reply