কক্সবাজারের রামুতে মিথ্যা অপহরণ মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে করেছেন রামু ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মুন্সিপাড়া এলাকার ভুক্তভোগী একটি পরিবার।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে ) দুপুরে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রামু, ফতেরকুল ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া এলাকার ছুরুত আলমের ছেলে নাছির উদ্দীন।
তিনি বলেন, আমাদের নিকটাত্মীয় জাফর আলম একটি জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে আমাদের পুরো পরিবারকে একটি মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। কথিত মিথ্যা অপহরণ নাটক সাজিয়ে ৩২ লাখ টাকা চুরির গল্প তৈরি করে রামু থানার মাধ্যমে আমাদের নির্যাতন ও হয়রানি করছেন।
মামলার তদন্তের নামে রামু থানার এসআই আনোয়ার নানা ভাবে হয়রানি করছে এবং বিভিন্নভাবে টারা দাবি করছেন৷
ইতোমধ্যে আমার এক ভাইকে গ্রেপ্তার
করে টাকা, দামি মোবাইল আত্মসাৎ করে ও রামুর মন্ডল পাড়ার একটি বাসায় নির্যাতন করে এবং জোর করে ৩২ লাখ টাকার একটি স্বীকারোক্তি জবানবন্দি নেওয়ার চেষ্টা করে এস আই আনোয়ার। আমি ( নাছির উদ্দীন ) মামলার আসামি না হয়েও চট্টগ্রামে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশির নামে হয়রানি করে এবং মামলায় নাম দেওয়ার কথা বলে ৬ লাখ টাকা দাবি করেন এসআই মোহাম্মদ আনোয়ার। টাকা অস্বীকৃতি জানালে প্রতিষ্ঠানে থাকা নগদ ২৪ হাজার টাকা নিয়ে যায়; যা মামলার জব্দ তালিকায় দেখানো হয়নি।
তিনি বলেন, তার নিকটাত্মীয় চাচা জাফর আলমের সাথে জায়গা জমির বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের থেকে তার ছেলে নিশানকে অপহরণ ও বাড়ির দরজা ভেঙে ৩২ লাখ টাকা চুরির অভিযোগ তুলে গত ১২ এপ্রিল আমার বড় ভাই তৈয়ব উল্লাহ, মা তাহেরা বেগম, বোন রাবেয়া বসরী ও ভাই আরিফ উল্লাহকে আসামি করে রামু থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় অভিযোগ তোলা হয়, আমার ভাই আরিফ উল্লাহ অস্ত্রের মুখে বাদী জাফর আলমের ছেলে আনছারুল করিম নিশানকে অপহরণ ও বাড়িতে ঢুকে তালা ভেঙে ৩২ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু, ঘটনার আগে থেকে নিশান এলাকার বাইরে ছিল।
দুঃখজনক হলে-ও সত্যি যে, নিশানকে অপহরণ করা হয়েছে বলে মামলা হয়েছে, সে-ই নিশান তার নিজস্ব ফেইসবুকে তাঁকে কেউ অপহরণ করেনি বলে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন এবং বলেছেন সেই নিজের ইচ্ছাতেই ঘরের বাইরে ছিলেন। তাহলে এই ভিডিও থেকে প্রতিয়মান হয় যে, জাফর আলম নিজের ছেলের অপহরণের নাটক করে মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করছে; যা সম্পূর্ণ বানোয়াট।
তিনি আরও বলেন, জাফর আলম একজন পানের দোকানদার হয়েও তার ঘরে কি করে নগদ ৩২ লাখ টাকা থাকবে? তার ছেলে যদি বাসায় না থাকে, তাহলে টাকাসহ তার ছেলে অপহরণের বিষয়টি হাস্যকর ছাড়া আর কিছু নয়।
জাফর আলমের মিথ্যা মামলা, পুলিশের হয়রানি ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
Leave a Reply