চট্টগ্রামের হালিশহরে ভাড়াটিয়া হয়ে বাড়িওয়ালার ওপর দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দাপট দেখানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন কৃষকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। বাড়ির মালিকের যুবতী স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ইতোমধ্যে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত মো. কাউছার সন্দ্বীপের বাউরিয়া পৌরসভা কৃষকদলের রানিং আহ্বায়ক এবং বিএনপির আগের সরকারের সময় পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর থানাধীন জে-ব্লক এলাকায় পানির মোটর চালু করাকে কেন্দ্র করে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া পরিবারের নারীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রতিনিধির হাতে আসা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে অভিযুক্ত নেতার স্ত্রী বাড়িওয়ালার স্ত্রীকে জুতা দিয়ে মারধর করেন। এরপর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কৃষকদল নেতা কাউছার। স্ত্রীকে হামলায় অংশ নিতে দেখে তিনিও বাড়ির মালিকের স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও মারধর শুরু করেন। মারধরের এক পর্যায়ে ওই নারীকে অর্ধ-বিবস্ত্র করে ফেলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলায় কাউছারের স্ত্রী, শ্যালকসহ আরও কয়েকজন অংশ নেন। পুরো ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। এ ঘটনায় আহত নারী শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলেও পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর গত ১৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী নারী হালিশহর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা আদালতে গড়ালেও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্ত কাউছার আইনের আওতায় আসেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কাউছার বলেন, সে আওয়ামী লীগের দোসর। তাকে আমি অনেক ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছি। আপনারা না জানলে এলাকার মানুষ থেকে জানেন। আমি তার কাছে টাকা পাই, কিন্তু সে টাকা দিচ্ছে না।
এ বিষয়ে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, মামলার বিষয়ে আমি অবগত আছি। মামলা আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, পানির মোটর চালু করা নিয়ে মহিলাদের ঝগড়া থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সচেতন মহল বলছে, নারী লাঞ্ছনা ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
Leave a Reply