1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
রাখাইন সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব, ঐতিহ্যবাহী জলকেলি সাংগ্রেং পোয়ে উৎসব চলছে   - দৈনিক আমার সময়

রাখাইন সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব, ঐতিহ্যবাহী জলকেলি সাংগ্রেং পোয়ে উৎসব চলছে  

দিদারুল আলম সিকদার,  কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
    প্রকাশিত : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
কক্সবাজার জেলা জুড়ে রাখাইন সম্প্রদায়ের জলকেলি উৎসব শুরু হয়েছে প্রতিটি প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে পুলিশের উপস্থিতি থাকবে। একই সঙ্গে সাদা পোষাকে নজরদারি করা হবে।
রাখাইন পঞ্জিকা অনুসারে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) শেষ হয়েছে রাখাইন বর্ষ ১৩৮৭। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে রাখাইন বর্ষ ১৩৮৮। এই বর্ষ বিদায় ও বরণে কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়ের ৭ দিনের ‘সাংগ্রেং’ বা বর্ষ বিদায় ও বরণ উৎসব পালন হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সামাজিক নিয়ম মতে, ১৪ এপ্রিল শুরু হয়েছে এই উৎসব। আর শেষ তিন দিনের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসব চলছে।
রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজনের দেওয়া তথ্যমতে, ১৪ এপ্রিল থেকে এই উৎসবের নানা আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ওই দিন থেকে রাখাইনরা বৌদ্ধ বিহারগুলোতে পালন শুরু করেন নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠান পালন শেষে নতুন বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয় জলকেলি বা সাংগ্রাইন, যা চলবে তিন দিনব্যাপী।
রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মংছেন হ্লা রাখাইন বলেন, উৎসব উপলক্ষ্যে সকালে প্রতিটি রাখাইন পল্লী থেকে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধরা শোভাযাত্রা সহকারে বৌদ্ধ বিহারে যান। এতে অল্প-বয়সিরা মাটির কলস এবং বয়স্করা কল্পতরু বহন করেন। এরপর সেখানে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পর্ব শেষ করেন। বিকেলে তরুণ-তরুণীরা বাদ্যযন্ত্র সহকারে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ান জলকেলি উৎসবের প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে।
তিনি বলেন, নানা প্রজাতির ফুল আর রঙ-বেরঙয়ের কাগজে সাজানো হয় প্রতিটি প্যান্ডেল। প্যান্ডেলের মাঝখানে থাকে পানি রাখার ড্রামসহ নানা উপকরণ। এতে পানির রাখার এসব উপকরণের এক পাশে অবস্থান করেন তরুণীরা আর অন্য পাশে থাকেন তরুণের দল। তারা নাচে-গানে মেতে উঠে একে অপরের প্রতি ছুড়তে থাকেন মঙ্গল জল। রাখাইনদের বিশ্বাস, এই মঙ্গলজল ছিটানোর মধ্য দিয়ে মুছে যায় পুরাতন বছরের সব গ্লানি, ব্যথা, বেদনা, অপ্রাপ্তিসহ নানা অসঙ্গতি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, কক্সবাজার শহরের পূর্ব-পশ্চিম মাছ বাজার, ফুলবাগ সড়ক, ক্যাং পাড়া, হাঙর পাড়া, টেকপাড়া, বার্মিজ স্কুল রোড, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক ও চাউল বাজারে চলবে এ উৎসব। এছাড়াও জেলার মহেশখালী, টেকনাফ, চকরিয়া, হারবাং, রামু, চৌফলদন্ডীসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত অর্ধশত প্যান্ডেলে চলছে বর্ষবরণ উৎসব।
এ উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ ‍সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার জানান, কক্সবাজারের রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসব সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানে পুলিশ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে পুলিশের উপস্থিতি থাকবে। একই সঙ্গে সাদা পোষাকে নজরদারি করা হবে। আশা করা যায়, সম্প্রীতির বন্ধনে শেষ হবে এ উৎসব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com