চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে পথশিশুদের নেশাজনিত অপরাধ। বিশেষ করে ড্রেন্ডি নামক নেশায় আসক্ত এক শ্রেণির পথশিশুর বেপরোয়া চলাফেরা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ইপিজেড থানাধীন ৩৯ নং ওয়ার্ডের ফ্রিপোর্ট মোড়, এমবিপি গেইট, সল্টগোলা ক্রসিং, ইপিজেড সংলগ্ন রেললাইন সড়কের মন্দির এলাকা, আকমাল আলী বেড়িবাঁধ পকেট গেইটসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই এসব পথশিশুর আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। দিনের আলোতেও তারা প্রকাশ্যে নেশা সেবন করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অন্যদিকে বন্দর থানাধীন ৩৬, ৩৭ ও ৩৮ নং ওয়ার্ডের বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা বিশ্বরোড, সল্টগোলা ক্রসিং, পুরোনো পোর্ট মার্কেট, এসহাক ডিমো এলাকা, বিভিন্ন গ্যারেজ সংলগ্ন স্থান এবং টিজি কলোনির ময়লার স্তুপ এলাকায় প্রতিনিয়তই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এসব স্থানে নেশাগ্রস্ত পথশিশুদের জটলা এবং সন্দেহজনক চলাফেরা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব নেশায় আসক্ত কিশোর ও পথশিশুরা প্রায়ই চুরি, মোবাইল ছিনতাই, এমনকি চলন্ত যানবাহন থেকে মালামাল হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে পথচারী, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা।
শুধু ইপিজেড বা বন্দর থানা এলাকাতেই নয়, নগরীর কোতোয়ালি থানার স্টেশন রোড, লালদিঘীর পাড়, জামাল খান মোড়, সিআরবি রোড এবং হালিশহর থানাধীন বড়পোল মোড় থেকে সাগরিকা মোড় পর্যন্ত এলাকাজুড়েও এদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে, শুধু আইনগত ব্যবস্থা নয়, একযোগে সামাজিক উদ্যোগ, পুনর্বাসন, শিক্ষা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় আজকের এই পথশিশুরাই ভবিষ্যতে বড় ধরনের অপরাধচক্রের অংশ হয়ে উঠতে পারে, যা পুরো নগরজীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
Leave a Reply