1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
মিরপুরের সাব-রেজিস্ট্রার সাদ্দাম হোসেন  ছাত্র হত্যা মামলার আসামিদেরকে নিয়ে বন-ভোজন,জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া - দৈনিক আমার সময়

মিরপুরের সাব-রেজিস্ট্রার সাদ্দাম হোসেন  ছাত্র হত্যা মামলার আসামিদেরকে নিয়ে বন-ভোজন,জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

শাহ্ আলমঃ 
    প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০২৫

রাজধানী ঢাকার মিরপুরের  সাব- রেজিস্ট্রার সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে,২৪’র  জুলাই’র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামী ও  আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত  হয়ে তিনি তার সকল কার্যসম্পাদন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ।

 

মিরপুরের সাব-রেজিস্ট্রার সাদ্দাম হোসেন কি আওয়ামীলীগ পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছেন?  এমন প্রশ্ন এখন মিরপুর বাসীর মুখে মুখে।

 

সম্প্রতি একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায়, এক সময়ের সাভারের প্রভাবশালী রাজীব, সমরের কমিটির অন্যতম নেতা, দলিল লেখক সমিতির সদস্যঃ মোঃ আজিজুল ইসলাম ওরফে ভেন্ডার আজিজ, মিরপুর মডেল থানার ছাত্র হত্যার ২৩ নম্বর মামলার ১৫ নং এজাহার নামীয় আসামি, তিনি সহ  বিএনপি’র বহিস্কৃত নেতা ওয়াজউদ্দিন, সাব রেজিস্ট্রার সাদ্দাম হোসেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তদন্ত সূত্র বলছে ওয়ায়েজ উদ্দিনের  নামে পল্টন থানা সহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায়  একাধিক  মামলা রয়েছে ।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছেন যে, দলিল লেখক সমিতির ব্যানারে বন-ভোজন করতে তারা কক্সবাজার যান, সেখানে পতিত সরকারের আরো একজন দোসর সাবেক সাব রেজিস্ট্রার তৌফিক সালাউদ্দিন তার পরিবার সহ উক্ত ভোজ  অনুষ্ঠানে শরীকছিলেন।

 

মিরপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির মোঃ আজিজুল ইসলাম আজিজ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর, ঢাকা ১৪ আসনের সাবেক এমপি আসলামুল হকের মৃত্যুর পর উপ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হতে তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছিলেন বলেও জানা যায়, ফ্যাসিস্ট সরকারের  ২৪ সালের অবৈধ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ।

একজন দলিল লেখক হয়েও, তিনি গড়ে তুলেছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়, নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন গাড়ি বাড়ি জমি প্লট ও ফ্ল্যাট । জানা যায় তিনি কাউন্দিয়া মৌজায় হিন্দুদের জমি, নামে বেনামে নিজের করে নিয়েছেন । কালো টাকার প্রভাব বিস্তার করে ভোল পাল্টে তিনি বিএনপির লেবাসে আছেন এখন।

জানা যায়, আজিজুল ইসলাম  আজিজ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য এবং দারুসসালাম থানা আওয়ামী লীগের সহ – সভাপতি( প্রস্তাবিত)বর্তমানে এই পদে বহাল তবিয়তে আছেন।তিনি দলিল লেখক সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ও একজন দায়িত্বশীল নেতা। মোঃ আজিজুল ইসলাম ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন । সেন্ট্রাল ল’ কলেজের সাবেক জিএস  ও সরকারি বাংলা কলেজের ছাত্র নেতাও ছিলেন। বর্তমানে দলিল লেখক সমিতিতে আওয়ামী লীগের পুনঃবাসন প্রক্রিয়া ধরে রাখতে,পিকনিকের আয়োজন করেছেন আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে।

মিরপুর এলাকার একাধিক বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মিরপুর ছাত্রদল, যুবদল মিলে কিছু আওয়ামী লীগের ছোট ছোট নেতাদের ধরে পুলিশে সোপর্দ করলেও রাঘব বোয়ালরা রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে, তারা কালো টাকায় প্রভাবিত হয়ে অনেকে হয়তো চুপ আছেন । সাবেক একজন আওয়ামী এমপি প্রার্থী মিরপুরে বহাল তবিয়তে ঘুরছেন অথচ তারা কিছুই যেন দেখছেন না । আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নীরব ভূমিকা পালন করছেন । তারা আক্ষেপ করে বলেন, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ওয়াজ উদ্দিন ও সাব রেজিস্ট্রার সাদ্দাম হোসেন কি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে ব্যস্ত?

 

এ বিষয়ে জানতে  সাব- রেজিস্ট্রার সাদ্দাম হোসেনের নিকট গেলে, ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি কথা বলতে চাননি ।

 

দলিল লেখক সমিতির বর্তমান সভাপতি ওয়াজ উদ্দিন ফোনে বলেন, উনি আওয়ামী লীগের নেতা, এটা সত্য কিন্তু প্রশাসন কেন তাকে গ্রেফতার করছেন না এটা আমারও প্রশ্ন । আমিও চাই প্রশাসন তাকে গ্রেফতার করুক । তিনি আরো বলেন আমি বহিষ্কৃত হলেও এখন দলীয় সকল প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করি । ছাত্র হত্যা মামলার আসামিকে সাথে নিয়ে কিভাবে পিকনিকে গেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, উনি জামিনে আছেন ।

 

এ বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগের নেতা এবং ছাত্র হত্যা মামলার ১৫ নম্বর আসামি আজিজুল ইসলাম  ওরফে ভেন্ডার আজিজ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে নিজেকে ক্লিন ইমেজের লোক হিসেবে দাবি করেন, তিনি আওয়ামী লীগের নেতা এবং ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন বলেও স্বীকার করে নেন । উপনির্বাচনের বিষয় তিনি বলেন, আমার এক ছেলে উকিল তার কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা নিয়ে  নির্বাচন করতে গিয়েছিলাম । জমি গাড়ি বাড়ি ফ্ল্যাট সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি আগে জমি ও গাড়ির ব্যবসা করতাম আর সেই ব্যাবসার টাকায় আমি এ সব করেছি । সাব- রেজিস্ট্রার সাদ্দাম হোসেনকে তিনি কিভাবে নিজে হত্যা মামলার আসামি হয়েও তাকে সঙ্গে করে  বন-ভোজনে নিয়ে গেলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উনি খুব ভালো মানুষ ও শিক্ষিত,  তিনি বিসিএস ক্যাডার ছিলেন কিন্তু শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি এখানে চাকরি করছেন তাই তাকে নিতে সক্ষম হয়েছি ।

ভেন্ডার আজিজ এ সময় এই প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার জন্যও বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন ।

 

(বিস্তারিত আসছে পরবর্তী সংখ্যায়-)

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com