যেখানে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ডেভিল হান্টের অভিযান চলছে সেখানে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলার দেড় মাস পার হলেও পুলিশের নিস্ক্রিয়তায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা রয়ে গেছে অধরা। শংকিত ও আতংকিত ভুক্তভোগী বাদী।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার শিবু মার্কেট সংলগ্ন পূর্ব লামাপাড়া এলাকার ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন ও একই এলাকায় বসবাসের সুবাদে সম্পর্ক তৈরি হয় শাহাবুদ্দিনের সাথে। তখন কায়েমপুরস্থ বটতলায় সড়ক ও জনপদের সরকারি ভূমিতে রোর্ড এন্ডস হাইওয়ে এর পাশে একটি গোডাউন করে ঝুটের ব্যবসার জন্য ভাড়া দেয় ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে সড়ক ও জনপদের আওতাধীন গোডাউন সরকার কর্তৃক ভাঙ্গার নির্দেশ হইলে প্রতারক মোঃ শাহাবুদ্দিন, মোঃ খোরশেদ আলম খরশু, মোঃ সুলতান মাহমুদ, মোঃ ফয়েজ ও আলমগীর প্রধানের সাথে বন্ধুত্বের সুবাদে ভুক্তভোগী আলাউদ্দিন জানায় আমার গোডাউন সড়ক ও জনপদ বিভাগ ভেঙ্গে ফেলবে। এ সময় প্রতারক শাহাবুদ্দিন বলে আমি এই গোডাউন যাতে না ভাঙে তার ব্যবস্থা করে দিব। তখন আলাউদ্দিন গত ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে ৬ লক্ষ টাকা প্রতারক চক্রকে দেয়। পরবর্তীতে সরকার গোডাউন ভেঙ্গে ফেলে। আর তখনই ঐ প্রতারক চক্রদের কাছে পাওনা ৬ লক্ষ টাকা ফেরত চাইলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। যার কারণে বিজ্ঞ আদালতে ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি পিটিশন মামলা দায়ের করলে পুলিশ প্রতিবেদনে সত্যতা পেয়ে আদালত প্রতারক শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করেন। যার মামলা নং-৪৬/২৪। আদালতে মামলা দয়ের করার পর হতে শাহাবুদ্দিন সহ ভেজাইল্লা সুলতান, ফয়েজ, আলমগীর ও খোরশেদ সহ আরো কয়েকজন অপরাধী আদালতের মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল। যারফলে গত ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আনুমানিক দুপুর আড়াইটায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন জালকুড়ি কড়ইতলা এলাকায় লিটু নামের একজন ব্যক্তির সাথে জায়গা জমি বেচাকেনা সংক্রান্ত বিষয়ে আলাউদ্দিন আলোচনা করে আসার পথে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও প্রতারকচক্র একা পেয়ে পথরোধ করে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে জোর পূর্বক একটি বড় অটো মিশুক গাড়িতে তুলে বৌ বাজার নির্জন বালির মাঠে এক কর্ণারে নিয়ে যায় এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। তখন আলাউদ্দিন স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করায় শাহাবুদ্দিন হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে আলাউদ্দিনের মাথায় কোপ দিয়ে মাথার পিছনে গভীর ক্ষত গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। খোরশেদ, সুলতান ও ফয়েজ কাঠের ডাসা ও লাঠি দিয়ে এলোপাথারি ভাবে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলা ফুলা কালশিরা রক্ত জমাট জখম করে। এক পর্যায়ে প্রতারক আলমগীর প্রধান আলাউদ্দিনের পকেটে থাকা ১৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ঐ সময় ভুক্তভোগীর ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন আগাইয়া আসিলে উপরোক্ত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে লোকজনের সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে সার্জারী বিভাগে ১৯নং ওয়ার্ডে ১৮নং বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন আলাউদ্দিন। পরিশেষে আলাউদ্দিন চিকিৎসা শেষে গত ৯ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৬, ধারাঃ ২৪১/১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬ দঃবিঃ। মামলার পর থেকে আসামীদের অব্যাহতি হুমকীতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বাদী। কিন্তু আসামীদের এখনো পর্যন্ত গ্রেফতার না করায় শংকিত ও আতাংকিত রয়েছে ভুক্তভোগী। এ ব্যাপারে যৌথ বাহিনী সহ নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির দ্রুত আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
Leave a Reply