1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
নির্বাচনে ভোটারের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে আসছে একাধিক প্রস্তাবনা - দৈনিক আমার সময়

নির্বাচনে ভোটারের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে আসছে একাধিক প্রস্তাবনা

আমার সময় ডেস্ক
    প্রকাশিত : শনিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৫

সংসদীয় গণতন্ত্র বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত— স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশে দুই ধরণের সরকারকেই দেখা গেছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে নির্বাচনকালীন সরকারের ভিন্নতাও চোখে পড়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গৃহিত ও বাতিলও হয়েছে। তবে জাতীয় নির্বাচনে একটি আসনে ভোটারদের অংশগ্রহণের মাত্রা নিয়ে এর আগে তেমন কোনো আবশ্যিকতা ছিল না। এবার প্রস্তাবনায় আসতে পারে এই বিষয়টি। সেইসাথে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার আলাপও আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্যরা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০ শতাংশের কম ভোট পড়লে, ঐ আসনের ভোট বাতিল বা পুনরায় নির্বাচন করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি পরিবর্তনেরও প্রস্তাব করা হবে। এছাড়া নির্দলীয় ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।

ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি ওঠে। সে অনুযায়ী নির্বাচন সংস্কার কমিশন ইসিকে শক্তিশালী করা সহ ভোট বাতিলের ক্ষমতা, নির্বাচনে আদালতের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ, আরপিওতে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবনা তৈরি করেছে। প্রস্তাবনায় থাকছে ভোটের হারের নিদিষ্ট করার বিষয়টিও।

নির্দিষ্ট আসনে আবশ্যিক মাত্রার ভোটারের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, ‘না ভোট’ যদি বিজয়ী হয় (কোনো প্রার্থীকেই ভোট না দেয়া বা অংশগ্রহণে বিরত থাকা), তাহলে সেই আসনে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা করা হবে। একটা নির্দিষ্ট শতাংশ ভোটারের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকতে হবে। এটি না হলে, মানুষ কেন ভোট বর্জন করছে, সেই আলাপও উঠে আসবে। এখনও শতকরা কত শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি থাকতেই হবে, প্রস্তাবনার জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে আলোচনা চলছে।

এছাড়া, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটে নির্বাচনের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে উপজেলা, ইউপি, সিটি কর্পোরেশনসহ সারা দেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর জনপ্রতিনিধিরা। এছাড়া নতুন সিস্টেমে সংসদের দ্বিকক্ষের (উচ্চকক্ষ) ভোটও থাকবে বলে জানান তিনি।

কমিশনে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি সাদিক আরমান বলেন, শুধুমাত্র যেসব আসনে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভোটের কম ভোট পড়বে সেখানে ভোট বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন করার ব্যপারে প্রস্তাবনা দেয়া হবে। পরিমাণ হিসেবে শতকরা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোট প্রস্তাবনায় উল্লেখ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অনেকগুলো খসড়া পরিকল্পনা রয়েছে। সবগুলো নিয়েই আলোচনা চলছে। পরবর্তীতে যারাই নির্বাচিত হবে, তাদের দায়িত্ব থাকবে সেগুলো বাস্তবায়ন করা।

সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে নির্বাচিত সরকার যেন পিছুটান না দেয়, এজন্য জাতীয় সনদ করার কথাও জানিয়েছেন কমিশন প্রধান।

উল্লেখ্য, টানা দেড় দশক মসনদে থাকার পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিগত ৩ টি সংসদ নির্বাচন, ভোটার উপস্থিতি ও ভোটের হার ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে ভোট হয়নি। বাকি ১৪৭ টি আসনে ভোটার হার দেখানো হয়েছিলো ৪০% শতাংশ। রাতের ভোট হিসেবে বিতর্কিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে (২০১৮) ভোটের হার ছিলো ৮০%। সবশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪১ দশমিক ৮ ভাগ। অভিযোগ রয়েছে, কাগজে কলমে ভোটের এই হার দেখানো হলেও বেশিরভাগ ভোটারই ভোট দিতে পারেনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com