স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের, সরকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থপনা বিভাগ-১ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে যাতে দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থা বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনীয় সংস্কার ও চিকিৎসা সেবার গুণগত মান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামো শক্তিশালী করনের জন্য বিশেষজ্ঞগণের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটিতে দেশের বিশিষ্ট সম্মানিত চিকিৎসকদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় বিষয় ভিত্তিক সংস্কারের জন্য নীতি নির্ধারণ,উচ্চশিক্ষা আধুনিকায়ন, বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানসমূহকে সংস্কার ও শক্তিশালী করনের বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য কাজের আওতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিষয় ভিত্তিক সংস্কারের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে সেটিকে নিঃসন্দেহে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং আমরা বিশ্বাস করি এরকম একটি উদ্যোগ নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনারর প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু গঠিত কমিটিতে যে সকল সম্মানিত সদস্যদেরকে রাখা হয়েছে তাঁরা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার শুধুমাত্র একটি অংশকে রিপ্রেজেন্ট করেন। গঠিত কমিটিতে চিকিৎসক ব্যতীত চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমে অন্যান্য অংশসমূহের সাথে জড়িত বা তাদের প্রতিনিধিত্বকারী জনবল যেমনঃ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের থেকে কোন প্রকার প্রতিনিধি রাখা হয়নি যা, কমিটির সার্বজনীনতা প্রশ্নবিদ্ধ করে শুধু তাই-ই নয়, গঠিত কমিটি স্বাস্থ্য সেবার অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের দাবি-দাওয়া, বৈষম্য নিরসন, সংস্কার কিংবা স্ব স্ব ক্ষেত্রসমূহের কল্যান ও উন্নয়নমূখী চাহিদা,মতামত বা মন্তব্য প্রদানের জন্য কিভাবে সংযুক্ত হবেন বা কিভাবে তাদের দাবি উপস্থাপন করবেন সে বিষয়ে কোনরকম স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
বরাবরের মতোই, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে একপেশে মনোভাবের একই চিত্র দৃশ্যমান হলো। যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদেরকে সংক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতি দ্বিমত পোষণ করি, প্রতিবাদ জানাই এবং স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য সকল জনবলদের প্রতিনিধিত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অনুরোধ দাবি জানাই।
চিকিৎসা সেবার দুটি অংশের-(রোগ নির্ণয়সেবা ও রোগ নিরাময় সেবার) মধ্যে, রোগ নির্ণয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনবল মেডিকেল টেকনোলজিস্ট যাদের রোগ নির্ণয় সেবার পুরোধা বলা হয় কিন্তু কোন প্রকার অধিকার বা দাবি-দাওয়ার বিষয় সব সময় তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়ে থাকে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া “জুলাই বিপ্লব” নামে ছাত্র- জনতার সম্মিলিত গণঅভ্যুত্থান, সব শ্রেনী ও পেশার মানুষকে এক নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এদেশের গণমানুষের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন গনতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আশার সঞ্চার করেছে। জনগণ তাদের অন্যসব অধিকারের পাশাপাশি সর্বজনীন চিকিৎসাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন। স্বাস্থ্যসেবাকে গণমূখী করতে হলে স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সকল জনবলের অধিকার সুনিশ্চিত করা অত্যবশকীয়। চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থকর্মীদের পেশাগত সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করে সকলকে সাথে নিয়েই একটি অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ একপেশে একমূখী ব্যবস্থাপনা সকলের মনে ক্ষোভ হতাশা সংক্ষুব্ধতার সঞ্চার করে আসছে তার থেকে বেরিয়ে একটি জনমুখী কল্যানকর সাম্যবাদী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে জুলাই- বিপ্লব অনুসরণীয় ও অনুকরনীয়।
স্বাস্থ্যসেবা একটি “টিম ওয়ার্ক” যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তত্ত্বাবধানে চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি মেডিকেল টেকনোলজিস্টগন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।
পর্দার অন্তরালে কাজ করা এ পেশাজীবীরা নানাবিধ পেশাগত সমস্যায় জর্জরিত কিন্তু নানান অযুহাত আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ পেশায় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি বরং অবদমনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থেকেছে বছরের পর বছর।
বৈষম্যের যাঁতাকলে পিষ্ট মেডিকেল টেকনোলজি পেশার আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এর সমস্যাসমূহ উপস্থাপন, বিশ্লেষণ, মতামত প্রদানের নিমিত্তে গঠিত প্যানেলে অংশীদারিত্বের সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবী জানাচ্ছি।
মো আবু বকর সিদ্দিক, পি এইচ ডি গবেষক।
Leave a Reply