সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বেসরকারি সংগঠনের আয়োজিত প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন সরকারি চিকিৎসকের অংশগ্রহনের অভিযোগ উঠেছে। যা চাকরির বিধান পরিপন্থী।
সোমবার (১১ মে) সকালের দিকে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটমের ভেতরে মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের সংগঠন ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ এসোসিয়েশন (ফারিয়া) শ্রীপুর উপজেলা শাখা ওই প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন ওই হাসপাতালের কয়েকজন ডাক্তার।
এতে উপস্থিত হন, শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা: শফিকুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার বিজন মালাকার ও ডাঃ ফজলুল হক সুমন।
সরকারের নীতির বিরুদ্ধে আয়োজিত এমন মানববন্ধনে খোদ সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি হতবাক করেছে সাধারণ মানুষকে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে নানা আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৌতুহল সৃষ্টি সম্পর্কিত মতামত দেখা গেছে।
সুত্রে জানা যায়, সম্প্রতি দেশের হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা সেবার মান নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের সাথে সপ্তাহে দুই দিন (সোম ও বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টা থেকে ২:৩০টা পর্যন্ত দেখা করতে পারবেন, হাসপাতালে নির্ধারিত সময়ের বাইরে তারা হাসপাতালের প্রাঙ্গণে অবস্থান করতে পারবেন না। একই সাথে ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিনিধিদের প্রেসক্রিপশন, রোগীর তথ্য বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারীকৃত ডকুমেন্টের ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের কাছে নতুন ওষুধের তথ্য বা বৈজ্ঞানিক তথ্য শেয়ার করার জন্য ডিজিটালি (ইমেইল বা সরকারি পোর্টালে) যোগাযোগ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যা অনৈতিক বিপণন চর্চা কমাতে সাহায্য করার লক্ষ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সরকারের নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে করা একটি প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত থাকতে পারেন কিনা জানতে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাক্তার শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে ফোন দিলে অন্য একজন রিসিভ করেন।’ ওই প্রান্ত থেকে জানানো হয় তিনি অপারেশন রুমে আছেন। বের হলে পরে কল দেন।
পরে সাংবাদিকদের কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে ডাঃ রফিকুল ইসলাম বলেন,’ সেসময় আমি এসিল্যান্ড মহোদয় এর অফিসে যাচ্ছিলাম,তখন এই মানববন্ধনটা ছিল মূলত যাওয়ার পথেই, কিছু পরিচিত মানুষ আমাকে ডাক দেয় এবং আমি কথা বলি কিন্তু কোনক্রমেই আমি তাদের আনদোলনের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে ছিলোনা। আর সেখানে আমি কোন কথা বলিনি কারো পক্ষ নিয়ে। আপনার অধীনস্হ আরও দুজন উপস্থিত থেকে বক্তব্য দিয়েছেন কিভাবে জিজ্ঞেস করলে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি ডাক্তার শফিকুল ইসলাম। ‘
অন্য দুই চিকিৎসক ডাক্তার বিজন মালাকার ও ডাক্তার ফজলুল হক সুমনের মোবাইলে বন্ধ থাকায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মামুনুর রহমান মুঠোফোনে বলেন,’ সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে তিনি সেখান যেতে পারেন না। আমি জানতে চাইলে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। উনি বিষয়টি অনুতপ্ত হয়েছেন। তাকে সাবধান করা হয়েছে।’
Leave a Reply