গাজীপুরের শ্রীপুরে টিনশেটে নির্মিত ভাড়া দেওয়া একটি বাড়িতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে পোশাক শ্রমিকদের বসবাসের ১১টি কক্ষ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।অগ্নিকান্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেন বাড়ির মালিক।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালের দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার (জৈনাবাজার সিদ্দিক প্লাজার সংলগ্ন) বাসায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ীর মালিক রফিকুল ইসলাম রবি আবদার গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে। তিনি একজন ব্যবসায়ী।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালের দিকে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া পাবেল মিয়ার ঘর থেকে প্রথমে আগুনের সুত্রপাত হয়। সে কারখানায় ডিউটিতে ছিল এবং তার স্ত্রী বাড়ীতে ছিল। তার ঘরের টিনের উপর দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখে আশ পাশের ঘরের লোকজন চিৎকার শুরু করে। মুহুর্তেই আগুন পাশের আরো ১০টি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। সকালে অনেকে কারখানায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এসময় অনেকে দ্রুত ঘর থেকে ছোটখাট মামলামাল বের করে আনতে সক্ষম হয়। এরপরও প্রত্যেকে ভাড়াটটিয়ার প্রায় ৩ থেকে ৫ লাখ টাকার মামাল পুড়ে গেছে।
গিয়াস উদ্দিন নামের এক ভাড়াটিয়া বলেন, আমরা পরিবারসহ পাশাপাশি রুমে থাকি। তোফায়েল আহমেদ, সোলাইমান, জামাল উদ্দিন, মদিনা বেগম, শরিফা আক্তার, আনোয়ার হোসেন, রমজান আলী স্থানীয় বিভিন্ন পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। অগ্নিকান্ডে প্রত্যেকের ঘরে থাকা টিভি, ফ্রিজ, ওয়ারড্রপ, আলমিরা এবং ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন,’আগুন লাগার খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। স্থানীয়দের সহযোগীতায় আগুন নিভানোর চেষ্টা করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তারা আসে। এ অগ্নিকান্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখানে পোশাক শ্রমিকেরাও তাদের কষ্টের টাকায় গড়া মামলামাল ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়।’
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর নুরুল করিম বলেন,’খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে, তাৎক্ষনিক ভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা সম্ভব হয়নি।’
Leave a Reply