অপহরণ, নিখোঁজ আর মুক্তিপণের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতাশিত হলেও তারপরে এবারে অপহরণ কিংবা নিখোঁজ একজন স্কুল ছাত্র।
কক্সবাজারের উখিয়ার রাজাপালং আবুল কাশেম নুর জাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির কারিগরি বিভাগের ছাত্র মছুদ মোহাম্মদ আরবিত (১৫) হচ্ছে ভিকটিম।
অপহরণের প্রায় আড়াই মাস সময় পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান এখনো মেলেনি। আদরের সন্তানকে হারিয়ে পিতামাতার চোখে এখন ঘুম নেই। সন্তান জীবিত ও নিরাপদ আছে কি না এই উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের।
ভুক্তভোগীর মা কাজল আকতার বাদী হয়ে এ বিষয়ে গত ১৭ জুলাই ২০২৬ উখিয়া থানায় জিআর মামলা নং-৪১২/২৬ দায়ের করেছেন। মামলায় ২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২/৩ জন কে আসামি করা হয়েছে। মামলার দুই নম্বর আসামি রুমখাঁ হাতির ঘোনার সেলিম পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও মূল আসামি মধ্য রত্না পালং গ্রামের ইব্রাহিম কাতার পাড়ি জমানোর কথা বলে আত্নগোপনে চলে গেছে।
নিখোঁজ মছুদ মোহাম্মদ আরবিত উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জাফরপল্লান পাড়ার বাসিন্দা আফাজ উদ্দিনের ছেলে। সে রাজাপালং আবুল কাশেম নুর জাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ জুন ২০২৬ দুপুরে কোটবাজার এলাকা থেকে আরবিত নিখোঁজ হয়। তাকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার আগে মামলার ১ নম্বর আসামি ইব্রাহিম বিভিন্ন সময় আরবিতকে আইফোন, টাকা- পয়সাসহ বিভিন্ন উপহার ও প্রলোভন দিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যেত। আসামিগণ এলাকার সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং এর সদস্য। মূল হোতা ইব্রাহিম আন্তর্জাতিক পাচারকারি গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত বলে এলাকার লোকজন সন্দেহ পোষণ করছেন।
নিখোঁজ কিশোরের পরিবার আশঙ্কা করছে, তাকে কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। পরিবারের পক্ষ থেকে আসামিদের সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং আন্তঃসীমান্ত বা আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের সম্ভাব্য যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় অপহরণের ঘটনা থেমে নেই। যার পরিবার স্বজন হারাচ্ছে তারাই জানে হারানোর বেদনা।একজন ফুটফুটে স্কুল ছাত্র আজ প্রায় আড়াই মাস ধরে নিখোঁজ। এরকম নিখোঁজ এবং অপহরণের ভিকটিমের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। কেউই যেন নিরাপদ নয়।
Leave a Reply