গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কোমারভিটা উত্তরপাড়া এলাকায় একটি কাঠবাগান থেকে মো. রুহুল আমিন নামের এক সিএনজি চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
শনিবার(১৫ আগস্ট) সকালের দিকে স্থানীয় লোকজন বাড়ির অদূরে বাঁশঝাড় ও কাঠবাগানের ভেতরে ওই মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে রুহুল আমিনের স্বজনদের খবর দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
নিহত রুহুল আমিন (৪০) বরমী ইউনিয়নের শিমুলতলী মুদিবাড়ি এলাকার মৃত আতাহার আলীর ছেলে। তিনি পেশায় সিএনজি চালক ছিলেন।
আনুমানিক প্রায় ২০ বছর আগে ওই গ্রামের আব্দুর রফিকের মেয়ে মোছা. হালিমাকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন রুহুল আমিন। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে। রুহুল আমিন সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালকসহ স্বজনেরা রুহুল আমিনকে মারধর করে হত্যা করেন। এ সময় তাঁর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে রিমি ঘটনাটি দেখলেও ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। আরেক শিশুকন্যা আফরিন বাবার ডাক-চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে তাঁকে বাঁচাতে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করলেও মারধর থামেনি বলে দাবি করেন তারা।
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান,’পারিবারিক কলহের জেরে রুহুল আমিন ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই নানা বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ হতো। তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ নিয়েও এলাকায় আলোচনা ছিল। পূর্বে এ নিয়ে কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়েছে।
নিহতের প্রতিবেশী তাহেরা পারভীন বলেন,’ রুহুল ছেলেটা অনেক ভালো মানুষ ছিল। যানবাহন চালিয়ে সংসার চালাতো। বিয়ের পর থেকেই এখানে থাকে। কি কারনে তার এমন হলো তা সুষ্ঠু তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে।’
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে রুহুল আমিনকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে হত্যা করা হয়। মারধরের সময় তাঁর চিৎকারে শিশুকন্যা আফরিনের ঘুম ভেঙে যায়। সে বাবাকে বাঁচাতে তাঁর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু এরপরও নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে রুহুল আমিনের মৃত্যু হলে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহতের বড়ভাই লিটন বলেন, চাচা শ্বশুরের ছেলের জামিনদারের মাধ্যমে এনজিও থেকে ১লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন রুহুল আমিন। সেটার ১৪ হাজার টাকা কিস্তি বকেয়া নিয়ে এনজিওকর্মীরা জামিনদারের বাড়িতে গিয়ে চাপ দিতো। এটা নিয়েও রুহুল আমিন ও তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। রাতে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁদের জানিয়েছিল, রুহুল আমিন রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছেন। ধারণা, ঋণের কিস্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার বিচার চাই।’
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন, নিহত রুহুল আমিনের স্ত্রী হালিমা খাতুন (৩৫), শ্বশুর মো. রফিক (৫৫), শ্যালক মো. শাহজাহান (২৭), চাচা শ্বশুর তাজউদ্দীন (৫০) ও তাঁর ১৬ বছর বয়সী কন্যা রিমি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন,’মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।’
তিনি আরও বলেন,’ নিহতের শিশুকন্যার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালকসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ চলমান।
Leave a Reply