রংপুর নগরীর রেলস্টেশন সংলগ্ন বাবুপাড়া লিচু বাগান এলাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। রেললাইনের সিগন্যাল বাতির ঠিক পাশেই সিমেন্টের পিলার দিয়ে কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলতে দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের রেললাইনের পাশে সিগন্যাল বাতির খুব কাছাকাছি এলাকায় নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে সিমেন্টের পিলার স্থাপন করে কংক্রিটের দালান নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রেললাইনের নিরাপত্তা ও সিগন্যাল ব্যবস্থার এত কাছে কীভাবে এ ধরনের নির্মাণকাজ চলছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে রেল চলাচল, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সিগন্যাল বাতির পাশে স্থাপনা নির্মাণের কারণে রেলওয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে কি না, তা দ্রুত যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা রেলওয়ের জমি দখল ও অননুমোদিত স্থাপনার বিষয়ে The Railways Act, 1890 (রেলওয়ে আইন, ১৮৯০)-এ রেলওয়ের সম্পত্তি ও রেল চলাচলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান রয়েছে। রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া রেলওয়ের সম্পত্তিতে প্রবেশ, ব্যবহার বা এমন কোনো কার্যক্রম করা যাতে রেলওয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে—এসব বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া রেলওয়ের জমি ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ দখল উচ্ছেদের ক্ষেত্রে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। রেলওয়ের জমিতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বৈধ ইজারা, অনুমোদন বা অন্য কোনো আইনগত অধিকারের ভিত্তিতে স্থাপনা নির্মাণ করছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই করার বিষয়। বিশেষ করে রেললাইনের সিগন্যাল বাতি ও অন্যান্য রেলওয়ে অবকাঠামোর পাশে কোনো স্থাপনা নির্মাণ রেল চলাচল বা নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে কি না, তা কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকেও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব হলো রেলওয়ের জমির রেকর্ড সংরক্ষণ, জমি ব্যবস্থাপনা এবং অবৈধ দখলদার ও অননুমোদিত স্থাপনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগের দায়িত্বের মধ্যেও রেলওয়ের জমির অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও অননুমোদিত স্থাপনা অপসারণের বিষয় রয়েছে। রেলওয়ের জমি দীর্ঘদিন যথাযথভাবে নজরদারিতে না থাকলে সেখানে স্থাপনা ও বিভিন্ন ধরনের দখল গড়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই বাবুপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন স্থাপনাটি রেলওয়ের জায়গায় পড়েছে কি না, তা রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সরেজমিন পরিমাপ ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্মাণের জন্য কোনো বৈধ অনুমোদন, ইজারা বা রেলওয়ের লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, রেললাইনের সিগন্যাল ব্যবস্থার এত কাছে নির্মাণকাজ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি এসেছে কি না। দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে জমির সীমানা নির্ধারণ, নির্মাণকাজের বৈধতা যাচাই এবং রেলওয়ের জায়গা হয়ে থাকলে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা তারা। সরকারি জমি রক্ষণাবেক্ষণ করা আমাদের সকলের দ্বায়িত্ব বলে মত প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply