মায়ের দুধের সুরক্ষা, প্রচার ও সমর্থনের লক্ষ্যে কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য কর্মক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে মূল বার্তা
মায়ের দুধ পান করানো শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি, যা শুধু শিশুর স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী নয়, একইসঙ্গে মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
নবজাতক ও ছোট শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে মায়ের দুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শিশুদের জীবনের প্রথম ৬ মাসে তাদের সমস্ত পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মায়ের দুধ হচ্ছে পুষ্টির সর্বোত্তম উৎস। তাই নবজাতকদের জন্মগ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ খাওয়ানোসহ ছয় মাস বয়স পর্যন্ত তাদের শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানোর সুপারিশ করা হয়।
জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধের সূচনা করা হলে তা নবজাতকের মৃত্যু ২২ শতাংশ পর্যন্ত ঠেকাতে পারে এবং ল্যানসেটে প্রকাশিত ‘এভরি নিউবর্ন’ শীর্ষক ধারাবাহিকের তথ্য অনুযায়ী, নবজাতকের মৃত্যুহার আরও ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে। সব শিশুকে ছয় মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর আওতায় আনা গেলে, এক হিসাব অনুযায়ী বিশেষ করে মধ্যম ও নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোতে পাঁচ বছরের কম বয়সী যত শিশুর মৃত্যু হয় তা ১৩-১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঠেকাতে পারে।
একেবারে শুরুতেই মায়ের দুধ খাওয়ানোর সূচনা করা এবং জীবনের প্রথম ৬ মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানো– এ দুটি বিষয়ই পুষ্টি বিষয়ক বাংলাদেশ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৬-২০২৫ (এনপিএএন-২)-এর অন্তর্ভুক্ত।
তবে সরকারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাংলাদেশে একেবারে জন্মের শুরু থেকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর চর্চা এবং প্রথম ৬ মাস পর্যন্ত এককভাবে শুধু মাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার এখনও সন্তোষজনক নয়। সারা দেশে, মায়েদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এখনও এই চর্চার বাইরে; কর্মজীবী মায়েদের ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রযোজ্য।
বাংলাদেশে শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়ানোর চর্চা বাড়াতে কর্মজীবী বাবা-মায়েদের সহায়তা করার জন্য কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, “মায়ের দুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধ, সুস্থ মস্তিষ্কের বিকাশ এবং মায়ের সঙ্গে মানসিক বন্ধনকে উদ্দীপিত করে।বিশ্বের যেসকল দেশে বেসরকারি খাত দ্রুত সমপ্রসারিত হচ্ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি।আর যেহেতু এখানে কর্মরত জনবলের একটা বড় অংশ নারী, তাই আমাদের কর্মজীবী মায়েদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে ।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে কিছু নিয়োগকর্তা ইতোমধ্যে স্তন্যদায়ী মায়েদের সহায়তা করার জন্য নীতিমালা তৈরি করেছেন, তবে আরও অনেক কাজ করা দরকার। ইউনিসেফ কর্মক্ষেত্রে মায়ের দুধ খাওয়ানোর বিষয়টিকে তুলে ধরার জন্য নীতিমালা জোরদার করতে বাংলাদেশ সরকার ও অংশীদারদের সহায়তা করছে।
কর্মক্ষেত্রে মাতৃত্বের সুরক্ষা ও মায়ের দুধ খাওয়ানোতে সহায়তা বিষয়ক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা, আইন ও বিধির আলোকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় (এমওএইচএফডব্লিউ) এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় (এমওএলই) কর্মজীবী মায়েরা তাদের কাজ ও নিজের ছোট সন্তানের যত্ন নেওয়ার মধ্যে ভারসাম্য রাখার ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় তা মোকাবিলার জন্য একটি উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগকে বলা হচ্ছে “মাদারস@ওয়ার্ক”, যার লক্ষ্য হলো কর্মজীবী নারীরা যাতে তাদের মাতৃত্বের অধিকার উপভোগ করতে পারে এবং মায়ের দুধ খাওয়ানোর সুযোগ পায় সে জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে বৃহত্তম ব্যবসায়িক খাত, (তৈরী পোশাক শিল্প) -সহ কর্মক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়া।
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ হল একটি সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক আন্ত©️জাতিক ক্যাম্পেইন । এ বছর (২০২৩) বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য হলো: কর্মজীবী মা-বাবার সহায়ক পরিবেশ গড়ি, মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করি।
এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি ও সহায়তা প্রদানের বিষয়ে এবং মায়ের দুধ খাওয়ানোর চর্চা বাড়াতে কর্মজীবী মায়েদের সহায়তা করার জন্য অংশীজনদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় পুষ্টি সেবা (এনএনএস), এমওএইচএফডব্লিউ ইউনিসেফ-বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে একটি অ্যাডভোকেসি সেমিনারের আয়োজন করে।
Leave a Reply