গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা-কে নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র মূলক অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এক সাংবাদিক। সাভারের ফুলকি নামক পত্রিকার সম্পাদক ও তার সহযোগী সহ জামায়াত-বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীর পরস্পর যোগসাজশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর জন্য মিথ্যা-ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন জাতীয় দৈনিক আমার সময় পত্রিকার জ্যৈষ্ঠ প্রতিবেদক সাংবাদিক মোঃ শাহীনুর ইসলাম ধ্রুব নয়ন। মামলার প্রধান আসামি ফুলকি সম্পাদক নাজমুস সাকিব ও অপর আসামী এমদাদুল হক সহ অজ্ঞাত জামায়াত-বিএনপির নেতা বলে জানা গেছে।
২৯ জুলাই সাভার মডেল থানায় মামলাটি দায়ের হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিবাদী নাজমুস সাকিব তার সহযোগী এমদাদ-কে সাথে নিয়ে জামায়াত-বিএনপির মদদে নাজমুস সাকিব সম্পাদিত দৈনিক ফুলকি নামক পত্রিকা যাহার রেজিঃ নং- ডিএ-২০৯৮, গত ২৭ জুলাই ২০২৩ ইং তারিখে শেষ পৃষ্ঠায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করে “অবশেষে পদত্যাগ করছেন এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী”- শিরোনামে বানোয়াট, ভিত্তিহীন, ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ অপপ্রচার করে গণমাধ্যম, দেশ, রাষ্ট্র ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জামায়াত-বিএনপির অজ্ঞাত কয়েকজন নেতাদের পরস্পর যোগসাজশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সুপরিকল্পিত ভাবে গুজব-অপপ্রচার চালিয়েছে।
আরও জানা যায়, বাংলাদেশের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে এবং গুজব-অপপ্রচার চালিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈত্যিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত চক্রটি। ইতিপূর্বেও প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোয় তাহার বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের হয় এবং কারাভোগও করেন নাজমুস সাকিব। নাজমুস সাকিব, তার সহযোগী এমদাদ ও জামায়াত-বিএনপির অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বারংবার একই অপরাধের মাধ্যমে প্রিন্ট এবং অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে রাষ্ট্রবিরোধী অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে গুজব-অপপ্রচার চালানো, সম্মানহানী, সামাজিক-রাষ্ট্রীয়ভাবে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের অভিযোগ এনে জাতীয় স্বার্থে মামলাটি দায়ের করেন লেখক, সাংবাদিক ও হটাও গুজব চলচ্চিত্রের নির্মাতা মোঃ শাহীনুর ইসলাম ধ্রুব নয়ন।
এবিষয়ে জানতে সাংবাদিক ধ্রুব নয়নের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সমাবেশকে ঘিরে তথ্য সংগ্রহে মিরপুর, তেজগাঁও, নয়াপল্টন, মতিঝিল, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, সাইনবোর্ড, কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, মোহাম্মদপুর ও সাভার এলাকায় দিনরাত এক করে অনুসন্ধান চালিয়েছিলাম ২৫ ও ২৬ জুলাই। তাদের প্রস্তুতি ছিলো মারাত্মক ভয়ঙ্কর! পরিকল্পনায় ছিলো গুজব- প্রধানমন্ত্রী “শেখ হাসিনা” আর ইতালি থেকে ফিরবেন না। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেই তাদের সমাবেশ দেখে। তাহলে বুঝুন- কি উদ্দেশ্য ছিলো সেই সমাবেশকে ঘিরে। এতোগুলো জায়গা ঘুরে শুধুই গুজব শুনেছি। ২৫ ও ২৬ জুলাইয়ের অনুসন্ধানী তথ্যচিত্রের প্রমাণ দিলো “ফুলকি” মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের মধ্য দিয়ে। রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে সেই ফুলকি সম্পাদক নাজমুস সাকিব ও তার সহযোগীরা যে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত তার জলন্ত উদাহরণ তিনি নিজে প্রমাণ করে তবেই ছেড়েছেন।
এসময়, সাংবাদিক ধ্রুব নয়ন আরও বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সুরক্ষায় সব সময় সোচ্চার ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। পেশায় আমি একজন গণমাধ্যমকর্মী হলেও আমি বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সবার আগে। আমার কাছে- ব্যক্তির চেয়ে পরিবার বড়, পরিবারের চেয়ে সমাজ বড়, সমাজের চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে রাষ্ট্র বা দেশ বড়! এখানে ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বা ব্যক্তিগত পদবীর উর্ধ্বে দেশ, রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রপ্রধান। রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রপ্রধানের সুরক্ষা নিশ্চিত রাখতে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রত্যেক সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিকের উচিৎ গুজব-অপপ্রচার ও দেশবিরোধীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। আমরা কি পারিনা- শিশুদের জন্য আগামীর একটি নিরাপদ প্লাটফর্ম রেখে যেতে। যারা অনলাইনে, সোস্যাল মিডিয়ায়, ইউটিউবে কিংবা গণমাধ্যমকে নিজের বাপদাদার কিংবা দলীয় সম্পদ মনে করে যাচ্ছেতাই করবে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক একটা ন্যায় প্রতিষ্ঠা হওয়া জরুরী। আমাদের সকল প্রকার গুজব থেকে নিজেদের বিরত রাখা উচিৎ এবং প্রত্যেকটি শিশু গুজবমুক্ত পরিবেশে বেড়ে উঠুক সেই প্রত্যাশা আমাদের সকলের। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গুজবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এখন বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আদালতের। একজন ব্যক্তির পরিকল্পিত রাষ্ট্রবিরোধী অপকর্মের জন্য গোটা গণমাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমকর্মীদের দোষারোপ করা যাবে না। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। সেই বিবেকের দোহায় দিয়ে যদি কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ কিংবা কোন গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধারে তথ্যসন্ত্রাসের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালায় তাহলে তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে রাষ্ট্রের সুরক্ষায় মহামান্য আদালত অবশ্যই ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন ইনশাআল্লাহ।
Leave a Reply