চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির মতবিনিময় সভায় দলীয় আদর্শ ধারণ করে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, পদ-পদবী বড় বিষয় নয়; দলের আদর্শ ধারণ করে জনগণের পাশে থাকাই প্রকৃত রাজনীতি।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে নগরীর লাভ লেইনস্থ স্বরনিকা কমিউনিটি সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত চট্টগ্রাম-৯ আসন বিএনপির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ্ব শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম, জাহাঙ্গীর আলম ও এম এ সবুর।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আজ এখানে কারো পদবী আছে, কারো নেই, এটা বড় কথা নয়। আমরা শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শে রাজনীতি করি। এই দলকে ভালোবেসেই আমরা রাজপথে থেকেছি। তিনি নেতাকর্মীদের হতাশ না হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, দল ক্ষমতায় এসেছে মাত্র দুই মাস, ধৈর্য ধরতে হবে।
সুবিধাবাদী রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেকে সুবিধার জন্য দল পরিবর্তনের চেষ্টা করে। এসব সুবিধাবাদীদের থেকে দূরে থাকতে হবে। নৈতিকতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে দল থেকে বহিষ্কার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতন ও জেল-জুলুম সহ্য করেও দল ত্যাগ করেননি। সেই ত্যাগের রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
নগরের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, চলমান খাল-নালা সংস্কার ও পরিষ্কার কার্যক্রমের কারণে সাময়িক ভোগান্তি হচ্ছে। তবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে নগরবাসী এর সুফল পাবে। ইনশাআল্লাহ, এবার চট্টগ্রাম শহরের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমে যাবে, বলেন তিনি। গত বছর আংশিক সুফল মিলেছে উল্লেখ করে এবার আরও বড় পরিবর্তনের আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রতিটি ইউনিটকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে টিম গঠন করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মনিটরিং করতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না। একটি কুচক্রী মহল দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মে জড়ানোর চেষ্টা করছে, এসব প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণ দলের ওপর আস্থা রেখেছে, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা এখন সবার দায়িত্ব।
প্রবাসীদের জমিতে জোরপূর্বক নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশাজনক মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও ঐক্য বজায় রাখার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, দলীয় উদ্যোগে মসজিদ, মন্দির ও কবরস্থানের উন্নয়নে অনুদান দেওয়া হয়েছে এবং কোরবানির আগে ওয়ার্ডভিত্তিক অসচ্ছল মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করা হবে। এসব সহায়তা স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই।
সভায় মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শিহাব উদ্দিন মোবিনসহ দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মী, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply