1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
নড়াইলে পেড়লী দাখিল মাদ্রাসার ১৭ শিক্ষকের ১৮ পরীক্ষার্থী 'ই ফেল। - দৈনিক আমার সময়

নড়াইলে পেড়লী দাখিল মাদ্রাসার ১৭ শিক্ষকের ১৮ পরীক্ষার্থী ‘ই ফেল।

সাজ্জাদ তুহিন নড়াইল প্রতিনিধি
    প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী দাখিল মাদরাসায় ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকলেও এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ জন শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেনি। একই উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা দাখিল মাদরাসার কোনো শিক্ষার্থীও এবার উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

 

 

১১ আগস্ট (মঙ্গলবার) সকালে পেড়লী দাখিল মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষগুলোতে পাঠদান চলছে। মাদরাসাটির দুই তলা ভবনে সুপারের কক্ষও রয়েছে।

 

 

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল জেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৮৩টি। এর মধ্যে এবার দুটি মাদরাসার কোনো শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো সদর উপজেলার পেড়লী দাখিল মাদরাসা ও আফরা দাখিল মাদরাসা।

 

 

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, পেড়লী দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ১৯৯৩ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে মাদরাসাটিতে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন সুপারসহ ১৭ জন। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির সব পরীক্ষার্থী পাস করলেও এবার ফলাফল হয়েছে শতভাগ অকৃতকার্য।

 

 

অন্যদিকে, আফরা দাখিল মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির ভবনও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে সুপার আতিকুর রহমানকে ডেকে আনা হয়।

 

 

আতিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে আসছি। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বর্তমানে মাদরাসার কার্যক্রম প্রায় বন্ধের পথে।

 

 

তবে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। পেড়লী দাখিল মাদরাসার এবারের পরীক্ষার্থী তুষ্মি খানম বলেন, আমি পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছি। শ্রেণিকক্ষে সব সময় প্রথম বা দ্বিতীয় হতাম। ফলাফলের শিটে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছি। ইংরেজি পরীক্ষাও ভালো দিয়েছি। কিন্তু ফলাফলে আমাকে ইংরেজিতে ফেল দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি বিস্মিত। উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করব। আমার বিশ্বাস, ফল পরিবর্তন হবে।

 

 

তুষ্মির মা রুমা বেগম বলেন, আমার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। পড়াশোনায় সব সময় প্রথম বা দ্বিতীয় হয়েছে। পরীক্ষা দিয়েও ভালো করেছে। কিন্তু তাকে ইংরেজিতে ফেল দেখানো হয়েছে। শুধু তাকে নয়, মাদরাসার সব শিক্ষার্থীকে ফেল দেখানো হয়েছে। বিষয়টি মেনে নেওয়া কঠিন।’

 

 

পেড়লী দাখিল মাদরাসার সুপার আশরাফুল জাম্মান বলেন, অন্য বছর ফলাফল ভালো হলেও এবার খুব খারাপ হয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালো শিক্ষার্থীও রয়েছে। আমরা অভিভাবক সমাবেশ করব। যেসব শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, তাদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা হবে। এরপর প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে।

 

 

নড়াইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘নড়াইলের পেড়লী ও আফরা দাখিল মাদরাসার কোনো শিক্ষার্থী এবার পাস করেনি। আমি সম্প্রতি নড়াইলে যোগ দিয়েছি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় করছি। এ দুটি প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করা হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে আগামীতে ভালো ফলাফলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। যশোর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নড়াইল জেলা থেকে এবার ৮ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৪০৪ জন। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৩৭০ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ১৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।#

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com