ঢাকার দোহারে জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শামছ উদ্দিন শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি করেছেন।
৭ ই আগষ সকালে এ কর্মসূচি করা হয়। এ সময় তিনি নিন্মলিখিত বিষয়গুলো তুলে ধরেন
আমি নিম্নস্বাক্ষরকারি মোঃ শামছ উদ্দিন স্কুল ও কলেজ নিবন্ধন করে সর্বসাকুল্যে ৩০০০/- টাকা বেতন এবং প্রদত্ত বেতনের ৫০% উৎসব ভাতা প্রাপ্তির শর্তে জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক পদে ০১/০১/২০০৯ ইং যোগদান করি। ২০১০ সালে ঈদ-উল-আযহার সময় তৎকালিন ইউএনও বাবু রথীন্দ্রনাথ দত্ত বেতনের সম পরিমান উৎসব ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী আমিও বাবু সঞ্জিব কুমার বর্মন সহ ৬ জন বেতনের সম পরিমান উৎসব ভাতা পেয়েছি। ২০২০ সালে ঈদুল ফিতরের জন্য ৭৬৪৫/- টাকা উৎসব ভাতা পেয়েছি। ২০২১ সালে উভয় ঈদে ৬১০৬/- টাকা করে উৎসব ভাতা পেয়েছি। ২০২২ সালে ৩০৪৮/- টাকা উৎসব ভাতা বিলে স্বাক্ষর করি নাই বিষয়টি বিগত ২১/০৪/২০১২ইং ১০.০৫ টায় ইউএনও কে ০১৯৩৩৪৪৪০৩৮ এ ফোন করে জানিয়েছি। কিন্তু ইউএনও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ১৬/০৫/২০১২ ইং বিধি মোতাবেক উত্সব ভাতা, বকেয়া প্রবৃদ্ধি ও টাইম স্কেল প্রাপ্তির আবেদন ডাকযোগে প্রেরণ করি যার ১৯/৫/২০১২ইং প্রাপ্তি স্বীকার আছে। ২০২৩ সালে ঈদুল ফিতরের উৎসব ভাতা ৩৮১৩/- টাকা দিয়েছে। আমার স্বাক্ষরবিহীন ৩টি উৎসব ভাতা বিলে ইউএনও প্রতিস্বাক্ষর করেছে। ১৮/০৬/২০২৩ইং ইউএনওর সঙ্গে দেখা করে উৎসব ভাতা প্রাপ্তির জন্য নতুন করে আবেদন ও পূর্বের আবেদনের ফটোকপি দেই। ২২/০৬/২০২৩ইং ইউএনওর সঙ্গে দেখা করলে তিনি কেন অনিয়মের বিলে স্বাক্ষর করতে বলেছেন? কেন উৎসব ভাতা বন্ধ করেছেন?
২৫/১০/২০১৩ইং বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভায় খন্ডকালিন শিক্ষকদের (৫০০+৫০০) মোট ১০০০/- (এক হাজার) টাকা প্রবৃদ্ধি প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু তৎকালিন প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎপাল আমাকে ১০০০/- টাকার হলে ৫০০/- টাকা প্রবৃদ্ধি দিয়েছে। বিষয়টি জেনে বর্তমান প্রধান শিক্ষকের নিকট আরও ৫০০/- প্রাপ্তির আবেদন করি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক আমার আবেদন সভায় উপস্থাপন করেনি। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টি জাতীয়করনের জন্য কমিটি বিলুপ্ত হয় এবং ইউএনও সভাপতি হন। আমি ০৭/১১/২০১৮ইং সভাপতি বরাবর আবেদন করি। ইউএনও বকেয়া প্রবৃদ্ধির কোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে না পারায় ০৪/০৭/২০১৯ইং যুগ্মসচিব (বর্তমানে অবঃ) শফিকুল ইসলাম স্যার আমার পাওনার বিষয়ে ইউএনও আফরোজা আক্তার রিবার সঙ্গে কথা বলেন। ১৭/০৭/২০১৯ ইং স্যারের ভিজিটিং কার্ড ইউএনও কে দিয়ে পাওনার কথা বলতেই ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়। সে আমার একটা কথা শোনে না। কি এনেছেন দেন। তখন আমি বকেয়া প্রবৃদ্ধি ও টাইমস্কেলের আবেদন ইউএনওর হাতে দেই। আবেদন পত্র দুটিতে তিনি লিখেন “এসিল্যান্ড বিষয়টি যাচাই করুন।” আবেদনপত্র দুটি আমার হাতে দিলে ভূমি অফিসে গিয়ে এসিল্যান্ডের হাতে দেই। এসিল্যান্ড প্রতিবেদন দিতে চেয়েও দেন নি। ইউএনও আফরোজা আক্তার রিবা বদলি হন। ০৫/১০/২০১০ইং ইউএনও ফিরোজ মাহমুদ এর সঙ্গে বকেয়া প্রবৃদ্ধি ও টাইমক্ষেলের বিষয়ে কথা বলি। এসিল্যান্ড প্রতিবেদন দিতে চেয়েও দেন নি। তিনি বলেন এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলব। ৩০/১১/২০২০ইং যুগ্মসচিব (বর্তমানে অতিঃ সচিব) মনছুরুল আলম স্যার এসিল্যান্ড জ্যোতিবিকাশ চন্দ্রের সঙ্গে কথা বলেন। ০২/১২/২০২০ইং ইউএনও সঙ্গে দেখা করলে ০৬/১২/২০২০ইং মিটিং করবেন বলেন। ০৬/১২/২০২০ইং স্কুলে এসে মিটিং করেন। মিটিংএ প্রথমে বকেয়া প্রবৃদ্ধির আবেদন ইউএনও হাতে নিয়ে প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করেন বকেয়া প্রবৃদ্ধি পাবে? প্রধান শিক্ষক বলেন, হ্যাঁ পাবে। তারপর টাইমস্কেলের আবেদন পত্র হাতে নিয়ে বলেন এত পরে আবেদন কেন? আমি সময় মতো আবেদন দিয়েছি। স্যার আবেদন সভায় উপস্থাপন করেনি। তিনি বলেন রিসিভ করে নেননি কেন? আপনার অফিস থেকেও আবেদন রিসিভ করে নেইনি। তখন প্রধান শিক্ষক বলেন কমিটি আপনাকে দেয় নাই। আমি বলি মিটিং এর কথা মৌখিক হবে না। রেজুলেশনে আবেদন নাকচ হওয়ার বিষয় লেখা থাকবে। প্রধান শিক্ষক বলেন লেখা থাকে না। তখন বলি আপনি এলোমেলো করেছেন বলে কমিটি আপনার বেতন বন্ধ করেছিল। প্রধান শিক্ষক চুপ হয়ে যান। ইউএনও বলেন ওনার পাওনা পরিশোধ করা হবে সব শিক্ষকের বেতন বাড়ানো হবে। মিটিংএ কার্তিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুক-ই-আজম সাব সহ জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ০৮ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে প্রধান শিক্ষকের কাছে জিম্মি হয়ে ০৭/০৩/২০২১ ইং আমার বেতন বন্ধ করে। ইউএনওর প্রতি ও ক্ষোভের কারণে শূন্য থালা নিয়ে উপজেরা চত্বরে বসি। ইউএনও দপ্তর থেকে উঠে এসে আমাকে ডেকে নিয়ে বলেন ঐতিহাসিক ঘটনার দিন আমাকে ফাঁসাতে এসেছেন? আমি ধমকের সুরে বলি, আমার বেতন বন্ধ করলেন কেন? তিনি বলেন বেতন আগামী দিন দেব। আগামী সপ্তাহে বকেয়া পাওনা দেব। ০৯/০৩/২০২১ ইং ২.০৫ মি: বিদ্যালয়ের করনিক শামীম ফোনে বলে, স্যার ৩.০০ টায় উপজেলায় মিটিং আছে। ২.০৯ মিঃ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফোনে আমাকে ডেকে নিয়ে বলেন ইউএনও সাব আপনাকে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা মানবিক সাহায্য দিয়েছে। আমি কারও সাহায্য নেই না। তিনি বলেন ইউএনওকে অপমান করা হয়। তখন আমি টাকা নেই। ৩.০০ টায় উপজেলায় সভাকক্ষে শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক উপস্থিত হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান ৬.০০ টায় আসেন। প্রথমে আমি বক্তব্য পেশ করি। রাত ৯.০০ টায় বিনা শর্তে আমাকে গতানুতিক বেতন দেন। ১৪/০৩/২০২১ ইং শিক্ষক নাসির উদ্দিন ও মোশারফকে বলি স্যার ইউএনওর সঙ্গে দেখা করা দরকার। নাসির স্যার বলেন আপনি টাকা নেন। ইউএনও হেডস্যারকে বলেছে। হেডস্যার আমাদের বলেছে। তাই টাকা ফেরত দেয়ার জন্য ইউএনও অফসে ৫/৬ দিন যাই। ইউএনও অফিস না করায় তার গোপনীয় সহকারি বাসা থেকে নথি স্বাক্ষর করে আনে আর বলে স্যার অসুস্থ যা সি সি ক্যামেরা যাচাই করলে সত্যতা মিলবে। ২৩/০৩/২০১১ইং সা প্রধান শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে রকিব হাসানের দপ্তরে যাই। স্যার টাকা ফেরত দিতে চাই বলতেই তিনি রেগে বলেন, উনি জানলো কি করে? আমি বলি হেড স্যার জানলো কি করে? তিনি বলেন আমি কাউকে বলি নাই। আমি বলি মানী লোক। টাকা না নিলে মান যায়। উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে টাকা দিয়েছেন। আপনি ফেঁসে যাবেন। তিনি বলেন টাকা ইউএনওকে ফেরত দেন। ইউএনও অফিস করে না। আপনি যোগাযোগ করে দেন। ২৭/০৩/২০২১ইং উন্নয়ন মেলার মাঠে ভেটেরিনারি সার্জন শামীম স্যার আমাকে বলেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে দেখা করে হিসাব দাখিল করেন। সবার কাছে থেকে আবেদন রিসিভ করে নিবেন। ২৮/০৩/২০১১ইং আমি, শিক্ষা অফিসার ও এসিল্যান্ড ইউএনও অফিসে যাই। ইউএনও বলেন আপনি হিসাব দাখিল করেন। আমি সভাপতি বরাবর হিসাব দাখিলের আবেদন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দেখাই। তিনি বলেন, টাকা দিবে প্রধান শিক্ষক। আপনি প্রধান শিক্ষক বরাবর হিসাব দাখিল করবেন। অনুলিপি দিবেন ১নং ইউএনও এবং ২নং আমাকে। সে মোতাবেক প্রধান শিক্ষক বরাবর হিসাব দাখিলের আবেদন প্রথমে ইউএনওর গোপনীয় সহকারি হোসনেয়ারা রিসিভ করে। সিল দেয়ার অনুরোধ করলেও সিল দেয়নি। বিদ্যালয়ের করনিক হুমায়ন আবেদন গ্রহণ করেছে। শেষে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে যাই। তিনি আবেদন দেখে বলেন, রেখে যান। রিসিভ করার কথা বলতেই রেগে বলেন কে রিসিভ করবে? আমি বলি অফিস রিসিভ করবে। অফিসে যান। মোরাদ ভাই রিসিভ করেছে। সিল দেয়নি। উল্লেখ্য যে, ইউএনওর দেয়া ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও দরিদ্রদের দান করেছি। পরিশেষে ভবিষ্যতে আর কোন শিক্ষক যেন আমার মতো ভোগান্তির শিকার না হয় এই প্রত্যাশায় শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ। মোঃ শামছ উদ্দিন। মোবাইল:01850027716
Leave a Reply