গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বেপরোয়া গতিতে ড্রাম ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুর হোসেন মিলনের নির্মমভাবে মৃত্যু হয়। সেই ঘাতক ট্রাক চালক আহাদ মিয়াকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শুক্রবার ৪ আগস্ট সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কোর্টবালানিয়া বাজার এলাকায় বেপরোয়া গতির বালুবোঝাই একটি ড্রাম ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট-১৭-১০৮১) চাপায় সিনিয়র সাংবাদিক মুঞ্জুর হোসেন মিলন (৫২) নিহত হন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১০-৫-৮-২০২৩।
জানা গেছে, মামলার ধারাবাহিকতায় র্যাব সদরদপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১ এবং র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থেকে মর্মান্তিক ড্রাম ট্রাক চালক আহাদ মিয়া (২৬) কে গ্রেপ্তার করেন। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত চালক দুর্ঘটনার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানায়, গ্রেপ্তারকৃত চালক আহাদ গেল-৪ আগস্ট সকালে বালু ভরা ড্রাম ট্রাক নিয়ে কাপাসিয়া থেকে তিনি চাঁদপুর যাচ্ছিলেন। ট্রাকটিতে অতিরিক্ত ওজনের বালু বোঝাই থাকা সত্ত্বেও সে তারাহুড়া করে পৌঁছানের জন্য বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। এরপর সে সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার কোর্টবালানিয়া বাজার গিয়ে পৌঁছায়। এসময় মোটরসাইকেল যোগে সাংবাদিক মিলন সংবাদ সংগ্রহ কাজে কাপাসিয়া যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতির ট্রাকটি চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাক চালক কৌশলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে গাড়ি রেখেই পালিয়ে যায়।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গেল-৭ বছর ধরে আহাদ মাহিন্দ্রা, পিক-আপসহ বিভিন্ন ধরণের গাড়ি চালিয়েছে। তার মাঝারী যানবাহন চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলেও ভারী যানবাহন চালানোর কোন বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এছাড়াও ট্রাকটির ধারণ ক্ষমতা ১৪ টন থাকলেও ৩৮ টন ওজনের বালু ভরে গাড়িটি চালিয়ে আসছিল। দুর্ঘটনার পর সে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে কোর্টবালানিয়া আসে এবং অটোযোগে কালিগঞ্জে যান। এরপর সেখান থেকে তিনি তার গ্রামের বাড়ি পৌঁছায় এবং দুর্ঘটনায় মামলা হয়েছে জানতে পেরে গ্রেপ্তার এড়াতে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এলাকায় তার এক আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় র্যাব সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত ঘাতক চালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
Leave a Reply