বর্তমান দেশে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর প্রথম পাবলিক পরীক্ষা আজ ২১ এপ্রিল শুরু হচ্ছে। এসএসসি ও সমমান এ পরীক্ষায় প্রথম দিন সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলা প্রথমপত্র।
নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর প্রথম পাবলিক পরীক্ষা আজ ২১ এপ্রিল শুরু হচ্ছে। এসএসসি ও সমমান এ পরীক্ষায় প্রথম দিন সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলা প্রথমপত্র। জেলায় এবার ৫৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে ২৬ হাজার ৭৪৭ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৩১টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৮ হাজার ১৯৮ জন। ১৪টি কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষার্থী ৭হাজার ১১৮ জন এবং ৮টি ভোকেশনাল কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী আছে ১ হাজার ৪৩১ জন। গত বছরের তুলনায় এবছর পরীক্ষার্থী কমেছে ২৩৩২ জন। জেলার সবকটি কেন্দ্রে নির্দেশনা অনুসারী সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য পূর্ব থেকে ঘোষণা করা হয়েছে ১৪ টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। পরীক্ষা সুস্থ নকল মুক্ত পরিবেশে গ্রহণের জন্য কেন্দ্র সচিবদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ইতিপূর্বে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি।
জেলা প্রশাসনের শিক্ষা ও আইসিটি শাখা হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৭টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ হাজার ৫৮৬ জন। এরমধ্যে এসএসসিতে ২,৯৬৯ জন, দাখিলে ১১৯৪ এন এবং ভোকেশনালে ৪২৩ জন অংশ নিচ্ছে। চকরিয়া উপজেলায় ৮টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ হাজার ৫০১ জন। এরমধ্যে এসএসসিতে ৪৭৪৩ জন, দাখিলে ১৫২৩ জন এবং ভোকেশনালে ২৩৫ জন অংশ নিচ্ছে। রামু উপজেলায় ৬টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৭১ জন। এর মধ্যে এসএসসিতে ১১৭৬ জন, দাখিলে ৭৭৯ জন এবং ভোকেশনালে ৩১৬ জন অংশ নিচ্ছে। কুতুবদিয়া উপজেলায় ৫টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৫২৯ জন। এর মধ্যে এসএসসিতে ১১৭৮ জন, দাখিলে ৩১৬জন এবং ভোকেশনালে ৩৫ জন অংশ নিচ্ছে। মহেশখালী উপজেলায় ৭টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৮৯৬ জন। এরমধ্যে এসএসসিতে ১৯৭০ জন, দাখিলে ৭৩৩ জন এবং ভোকেশনালে-১৯৩ জন অংশ নিচ্ছে। উখিয়া উপজেলায় ৭টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৯১৩ জন। এর মধ্যে এসএসসিতে-২১৪২ জন, দাখিলে ৬৫৩ জন এবং ভোকেশনালে ১১৮ জন অংশ নিচ্ছে। টেকনাফ উপজেলায় ৭টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৭৫৬ জন। এর মধ্যে এসএসসিতে ১৭৮৩ জন, দাখিলে ৮৬২ জন এবং ভোকেশনালে ১১১ জন অংশ নিচ্ছে। পেকুয়া উপজেলায় ৩টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৬৬ জন। এরমধ্যে এসএসসিতে ১৩৮৫ জন, দাখিলে৪৮১ জন।
সর্বশেষ ঈদগাঁও উপজেলায় ৩টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৪২৯ জন। তারমধ্যে এসএসসিতে ৮৫২ জন, দাখিলে ৫৭৭ জন এবং ভোকেশনালে পরীক্ষার্থী নেই।
জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, পরীক্ষা সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। গত বছর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ২৯ হাজার ৭৯ জন। গত বারের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজার ৩৩২ জন। তবে এই বারে প্রতি হলরুমে লাগানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
এদিকে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের সময়েই পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪টি বিশেষ নির্দেশনা মানতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা গুলো হলো পরীক্ষা শুরুর ৩০ (ত্রিশ) মিনিট পূর্বে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নিকট থেকে পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে সংগ্রহ করবে। শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে প্রেরণ করবে। পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) ফরমে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার অনুমতি প্রদান করা যাবে না। পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে পরীক্ষার্থীদের ভেতর প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি/পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মুঠোফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।
সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতিপত্র ব্যবহার করতে হবে।ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ৭ (সাত) দিনের মধ্যে পুণঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে দৈনিক পত্রিকা ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া, তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।
Leave a Reply