রংপুরে আধুনিক ও লাভজনক শস্য বিন্যাস কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ভুট্টা–পতিত–রোপা আমন ভিত্তিক কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে এক কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জমির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং কৃষকের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং সহযোগিতা প্রদান করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আঞ্চলিক কার্যালয়, রংপুর। সমাবেশে জোড়া সারি ভুট্টা, জোড়া সারি আলু এবং ডাল জাতীয় ফসল (পার্ট) সমন্বয়ে একটি উন্নত শস্য বিন্যাস পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়, যা একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর-এর উপপরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন,
“উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে শস্য বিন্যাসে বৈচিত্র্য আনা অত্যন্ত জরুরি। জোড়া সারি পদ্ধতিতে ভুট্টা ও আলু চাষ করলে জমির সঠিক ব্যবহার হয় এবং উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়, যা কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয় রংপুর-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান মোঃ রকিবুল হাসান বলেন,
“ভুট্টা–পতিত–রোপা আমন শস্য বিন্যাসের সঙ্গে ডাল জাতীয় ফসল অন্তর্ভুক্ত করলে মাটির জৈবগুণ বৃদ্ধি পায় এবং নাইট্রোজেন স্থিতিশীলতার মাধ্যমে রাসায়নিক সারের প্রয়োজনীয়তা কমে। এতে কৃষক কম খরচে অধিক লাভবান হতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, এই শস্য বিন্যাস পদ্ধতির মাধ্যমে—
পতিত জমির ব্যবহার বাড়ে
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা সহজ হয়
বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়
মাটির স্বাস্থ্য ও উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে
তারা মাঠ পর্যায়ে এই প্রযুক্তি বিস্তারে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট স্থাপন এবং কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ সেবা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাবেশে স্থানীয় কৃষকরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং আধুনিক এই শস্য বিন্যাস পদ্ধতি গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, গবেষক ও বিপুল সংখ্যক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply