1. : admin :
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বিশ্ব মানবমুক্তির দিশারী, জাতি রাষ্ট্রের স্রষ্টা, ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - দৈনিক আমার সময়

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বিশ্ব মানবমুক্তির দিশারী, জাতি রাষ্ট্রের স্রষ্টা, ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক
    প্রকাশিত : শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০২৩
হাজার বছরের পরাধীনতার নিকষ অন্ধকারে নিমজ্জিত বাঙালি জাতির ভাগ্যাকাশে মুক্তির প্রভাবকর রুপে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ঐতিহ্যবাহী শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ১৯২০ সালের ১৭ ই মার্চ বাংলাদেশের জন্মপরিচয়। হয়তো অনেকে আমার সাথে একমত নাও পোষণ করতে পাড়েন।
 তবে বঙ্গবন্ধুর জন্ম থেকে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত যদি ইতিহাসের সঠিক ব্যাখা করেন তাহলে অবশ্যই দ্বিমত পোষণকারীরাও একমত হবেন। ইতিহাস তার আপন গতিতে চলে।
 বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না এটা শতভাগ সত্য বলে আমি বিশ্বাস করি।  আর যারা বলেন বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে হয়তো কিংবা কিন্তু ব্যবহার করে বলেন বাংলাদেশের জন্ম হতো না।
তারা এখনও পাকিস্তানে বিশ্বাস করেন। আর এরা সুযোগ-সন্ধানী । এদের কাছ থেকে সাবধান। এরাই ৭৫-এর কুশিলব।
শেখ মুজিবুর রহমান ( খোকা)  বাল্যকাল থেকেই ছিলেন নির্ভীক, দয়ালু এবং পরোপকারী।
গ্রামের কাদা-জল, মেঠো পথ আর প্রকৃতির খোলামেলা পরিবেশে বেড়ে ওঠা খোকা মুজিব শৈশব থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মানবদরদি কিন্তু অধিকার আদায়ে আপসহীন। জীবনের প্রতিটি ক্ষণে যেখানেই অন্যায় -অবিচার, শোষণ -নির্যাতন দেখেছেন, সেখানেই প্রতিবাদে নেমে পড়েছেন।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে ব্রিটিশ বিরোধী সভা-সমাবেশে অংশ নেন তিনি।
 স্কুলে পড়ার সময়েই তাঁর নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ লাভ করতে থাকে। প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এই বিশ্ববরেণ্য নেতার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তকরা।
এক পর্যায়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলার নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের শেষ আশ্রয়স্থল। অবশ্য এজন্য তাঁকে বারংবার কারাগারে যেতে হয় এবং শারীরিক, মানসিক নির্যাতনের কবলে পড়তে হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আপাদমস্তকে একজন খাঁটি মুসলমান ও খাঁটি বাঙালি। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িকতার বাতিঘর। তিনি শুধু মাত্র বাঙালি জাতির বাতিঘর ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্বের চেতনার বাতিঘর।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের কিছুদিন পরই তরুণ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন, ব্রিটিশ পরাধীনতার কবল থেকে মুক্তি পেলেও বাঙালি নতুন করে পাকিস্তানের শোষণের কবলে পড়েছে। শাসকগোষ্ঠী প্রথম আঘাত হানে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি, বাঙালির মায়ের ভাষা ‘ বাংলা’র উপর।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। ১৯৪৮ সালে তাঁর প্রস্তাবে ছাত্রলীগ, তমুদ্দন মজলিশ ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট পালনকালে তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত তাঁকে বারবার কারারুদ্ধ করা হয়।
বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কখনও জেলে থেকে কখনও বা জেলের বাইরে থেকে ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ভাষা আন্দোলনের রুপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত আন্দোলনে কারান্তরীণ অবস্হায় থেকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ‘৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ‘৫৮-র আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ‘৬২-র শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ‘৬৬-র ছয় দফা, ‘৬৮-র আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ‘৬৯-র গণঅভ্যুত্থান, ‘৭০-র নির্বাচন এবং ‘৭১-র মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাঙালির আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বজ্রকন্ঠে ঘোষণা করেন,  ” এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,  এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম “,  যা ছিল মূলত স্বাধীনতার ডাক।
একটি ভাষণ কীভাবে সমগ্র জাতিকে জাগিয়ে তোলে,  স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ। তিনি এ ভাষণে শুধু স্বাধীনতার ডাকই দেননি বরং মুক্তিযুদ্ধের রুপরেখা ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন।
২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালীর উপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। পৃথিবীর ইতিহাসে এই ‘ অপারেশন সার্চলাইট ‘ ছিল জঘন্যতম হত্যাকান্ড।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বহুকাঙ্খিত স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা করার পরপরই তাঁকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গ্রেফতার করে এবং পাকিস্তান কারাগারে নিয়ে যায়। কারাগারে বন্দি অবস্হায় শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির হুকুম দিয়েছিল। অকুতোভয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন,  ” ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলব, আমি বাঙালি,  বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা “।
দেশ ও জনগণের প্রতি তাঁর অসামান্য অবদানেে জন্য বাংলা,  বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু আজ এক ও অভিন্ন সত্তায় পরিণত হয়েছে।
স্বাধীনতার পর পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে সদ্য জন্ম নেওয়া বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১০ জানুয়ারি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। যুদ্ধবিদ্ধস্ত বাংলাদেশ পুনগঠনে তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির পিতা দেশকে স্বপ্লোন্নত দেশে পরিণত করতে সক্ষম হন।
বঙ্গবন্ধু সরকারের অর্থনীতির গতি এমনই ছিল যে, আর দুই – তিনটি বছর সময় পেলে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের কয়েকটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের কাতারে চলে যাওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্র জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে অঙ্কুরেই ধ্বংস করে দেয় এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন স্বপ্নই অধরা থেকে যায়। কিন্তু হায়েনার দল বুঝতে পারেনি জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে লোকান্তরের বঙ্গবন্ধু অনেক বেশি শক্তিশালী।
বাংলাদেশের প্রতিটি পরতে পরতে বঙ্গবন্ধু সরকারের ছাঁপ পরিলক্ষিত হয়ে আছে। জলে-স্হলে – আকাশে বাংলাদেশের অবস্হান সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে তিনি বলেছিলেন,  ” ৭ কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না “।
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ। ৭ ই মার্চের ভাষণ নবী করীম ( সা.) এর বিদায় হজ্জের ভাষণের পরই পরিগণিত করা যায়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বিশ্বের একমাত্র নেতা, যিনি নিজে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই স্বপ্ন জনগণের স্বপ্নে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছিলেন পৃথিবীর বুকে এবং সেই স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছিলেন। এক জীবনে পৃথিবীর কোনো নেতার ভাগ্যে এমনটা দেখা যায় না।
বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের মহানায়ক। তিনি অমর, অবিনশ্বর ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার  বাংলাদেশ আজ তাঁরই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আজকে বাস্তবে রুপদান দিয়ে যাচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে।
লেখক,কলামিস্ট, সাংবাদিক ও সাবেক সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com