ঢাকার উত্তরার সেক্টর ১২, রোড ১৪-এর এক শান্ত পাড়ায় বিকেলের বাতাসে ভেসে আসে গিটারের তারের ঝংকার, কখনো আবার উকুলেলের মৃদু সুর বা হারমোনিয়ামের কোমল ধ্বনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটি এখন পরিচিত এক শব্দ—‘Acoustic Academy’।
পাঁচ বছর আগে সংগীতপ্রেমী সৌরভ-এর উদ্যোগে শুরু হয় এই সংগীত শেখার কেন্দ্রটির যাত্রা। ছোট পরিসরে শুরু হলেও আজ এটি উত্তরার অন্যতম জনপ্রিয় সংগীত শিক্ষালয় হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ৩০০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়মিত ক্লাস করে, যেখানে শেখানো হয় গিটার, উকুলেলে, কিবোর্ড, হারমোনিয়াম ও কণ্ঠসংগীত।
প্রতিষ্ঠাতা সৌরভ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু সংগীত শেখানো নয়—ছেলেমেয়েদের একটা সুন্দর পরিবেশে রাখা, যেখানে তারা নিজেকে গড়ে তুলতে পারে এবং জীবনের নেতিবাচক দিকগুলো থেকে দূরে থাকতে শেখে।”
তাঁর কথার প্রমাণ মিলেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যেই। অনেকেই জানান, একাডেমিতে নিয়মিত সংগীতচর্চা শুরু করার পর তারা মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে বেরিয়ে এসেছে। কেউ কেউ তো বলছে, এই জায়গাটি তাদের মাদক ও ভুল বন্ধুত্বের দিক থেকে দূরে রেখেছে।
একজন অভিভাবক বলেন, “আমার ছেলে আগে সারাক্ষণ বাইরে ঘুরত। এখন একাডেমির ক্লাসে নিয়মিত যায়, নতুন বন্ধু পেয়েছে, মনোযোগও বেড়েছে। সংগীত তাকে বদলে দিয়েছে।”
Acoustic Academy শুধু সংগীত শেখায় না, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক জীবনদৃষ্টিও গড়ে তোলে। মাঝে মাঝে আয়োজিত ছোট ছোট পরিবেশনা অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা যোগায় এবং পরিবারগুলোর সঙ্গে এক ধরনের সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করে।
পাঁচ বছরের পথচলায় সৌরভ ও তাঁর টিম দেখিয়েছেন—সংগীত কেবল বিনোদন নয়, এটি হতে পারে সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। উত্তরার এই একাডেমি আজ প্রমাণ করেছে, সুরের শক্তিতে তরুণ প্রজন্মকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনা যায়।
Leave a Reply