মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বরংগাইল হাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ইজারাদার রাকিবুজ্জামান রনি। তার অভিযোগ, হাট ইজারা নেয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতা না করে উল্টো তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
বরংগাইল হাট ইজারার নথিপত্র ঘেটে দেখা যায়, শিবালয় উপজেলার ১০টি হাট-বাজার ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দরপত্র জমা দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে বরংগাইল হাটের ইজারা পান মেসার্স জাহানারা ট্রেডার্স।
১ বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বাংলা সনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বরংগাইল হাটের ইজারা পায়। চলতি বছরের ২৩ মার্চ উপজেলা হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও শিবালয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউর রহমান খান ও মেসার্স জাহানারা ট্রেডার্সের মধ্যে ইজারার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর গত ১১ এপ্রিল শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মেসার্স জাহানারা ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারি মো. রাকিবুজ্জামান রনিকে হাটের দখল বুঝে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।
ইউএনও’র চিঠি পাওয়ার পর ইজারার ২১ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা জমা দিয়ে হাটের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন ইজারাদার। তবে হাটের জায়গা প্রসারিত করে গরু-ছাগল বিক্রি শুরু করলে বাগড়া দেয় প্রশাসন। বিভিন্নভাবে তাকে বাঁধা প্রদান করা হয়।
বরংগাইল হাটে গরু-ছাগল বিক্রয়ের অনুমতি প্রদান করা যাবে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মহাদেবপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন শিবালয় উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুর রহমান খান। এ বিষয়ে তদন্ত করে গত ২৪মে এসিল্যান্ডকে চিঠি দেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মো. ফয়জুল হক।
চিঠিতে বলা হয়, বরংগাইল হাট প্রায় ১০০ বছর যাবৎ প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে সেখানে সোমবার ও বৃহস্পতিবার হাট বসে। ইজারাদারের আবেদনকৃত স্থানে গরু-ছাগল বিক্রয়ের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
ইজারাদার রাকিবুজ্জামান রনি বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে আমি হাট ইজারা নিয়েছি। সকল কাগজপত্র বুঝে পাওয়ার পর আমি গরু-ছাগল বিক্রি শুরু করি। কিন্তু হাট পরিচালনা করতে আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, হাটের সীমানা মেপে আমাকে হাট বুঝিয়ে দেয়া হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল লতিফ বলেন, যখন হাট-বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে, তখন গরুর হাট ছিল না। আইন অনুযায়ী, ইজারা নেওয়ার পর হাট এক্সটেনশন করার সুযোগ নেই। তবে ইজারাদার যদি চান তাহলে অস্থায়ী হাটের জন্য আবেদন করতে পারেন।
Leave a Reply