মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধন ও কাফন মিছিল করেছেন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান ফটকে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা, সারাদেশে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করাসহ মোট ৮ দফা দাবি তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। উল্টো, অধ্যক্ষ ২০ দিন পর তাদের ডেকে স্কুলের পক্ষে স্বাক্ষর নিতে চেয়েছিলেন। অভিভাবকরা আরও অভিযোগ করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বহিরাগত লোকজন দিয়ে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জোর করে স্কুলে ফিরিয়ে নিয়ে টিসি দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ:
* অভিভাবকদের অভিযোগ, মাইলস্টোন স্কুল শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করে। কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে অধ্যক্ষ নূরনবী এবং শিক্ষক খাদিজা আক্তারসহ অনেকে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
* একইসঙ্গে, নিহত তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়মার বাবাকে শিক্ষক নোমান লাঞ্ছিত করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে অভিযুক্ত শিক্ষক নোমানের পদত্যাগের দাবিও জানানো হয়।
৮ দফা দাবি:
১. ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
২. মাইলস্টোনসহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে।
৩. সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪. স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিহতদের পরিবারকে ২ কোটি টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৫. রানওয়ে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরাতে হবে, না হয় রানওয়ে সরিয়ে নিতে হবে।
৬. কোচিং ব্যবসার মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা আক্তারকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে হবে।
৭. স্কুলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখাতে হবে।
৮. বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ জনহীন জায়গায় করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ মোট ৩৪ জন নিহত হন।
Leave a Reply