মাদক, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য প্রতিরোধ ও এলাকার বিশৃঙ্খলা দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া পৌর ১০,১১,ও ১২ নং ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণব্যাক্তি ও গ্রহনযোগ্যদের নিয়ে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (০৭/০৭/২০২৩) ইং বিকাল পাঁচটায় কুষ্টিয়ার মিলপাড়াতে মোহিনী মোহন বিদ্যাপীঠ স্কুলের আঙিনায় মিলপাড়া সহ অত্র এলাকার সকলকে একত্রে করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এক আলোচনা শেষে এলাকার সুশীল শ্রেণীর মানুষসহ নেতৃত্ব প্রদানকারী সকলের সমন্বয়ে ৫ জন উপদেষ্টা ও ১৮ বিশিষ্ট শান্তি কমিটি গঠন করা হয়।
শান্তি কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সাবেক কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হাজী রবিউল ইসলামকে রাখা হয়েছে ।
বিশিষ্ট সমাজসেবক ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নাসির উদ্দিন মৃধা (উপদেষ্টা)। কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র হাজী মতিয়ার রহমান মজনু (উপদেষ্টা)। জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী আমজাদ আলী খান (উপদেষ্টা)। তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার গৌরব চাকী (উপদেষ্টা)।
কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও মুক্তিযোদ্ধা তাইজাল আলী খানকে শান্তি কামিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
যুগ্ন আহ্বায়ক বিশিষ্ট শিল্পপতি, সমাজসেবক ও চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ফজলে করিম খোকা।
সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পলাশ শ্যান্নাল, মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন, কিশোর কুমার ঘোষ জগত, গোলাম মোস্তফা লাভলু, রবিউল হক খান, জিয়াউল হক জিয়া, নিজাম উদ্দিন খান, খান মোহাম্মদ ওয়াহেদ রনি, আনিস কোরাইশি, নিলয় কুমার সরকার, মফিজুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, আনিসুর রহমান আনছু, আতিকুর রহমান সবুজ, মুসা খান, ইসারুল ইসলাম।
পূর্ব মিলপাড়া, বাধ এলাকা ও ভাটাপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস,বিশৃঙ্খলা, মাদক ও গ্রুপিংয়ের কারনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এই এলাকাটি। মারামারি, কাটাকাটি, লুটপাট, মামলা হামলা লেগেই আছে এই এলাকায়। এর ফলে অনেক সময় সাধারণ মানুষও মিথ্যা মামলা-হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছে।
গত ২/৭/২৩ বিকেলে রবীন্দ্র লালন উদ্যানের সামনে ওই এলাকার দুই গ্রুপের কিশোর গ্যাংদের মধ্যে মারামারি হয়। তারপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। উত্তেজনা পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ জুলাই রাত আটটার দিকে কুষ্টিয়া মহা শ্মশানের পাশে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মহড়া, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ শুরু হয়, পরে সেখানে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরেরদিন ৫ জুলাই মধ্যরাতে ভাটাপাড়া রকি নামের এক সেনা সদস্যের বাসায় ডাকাতি হয়। ওই এলাকার এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন।
স্থানীয়রা বলেন দীর্ঘদিন আমাদের এই এলাকায় নেতৃত্ব দুই ভাগে ভাগ হয়েছে একদিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ১০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান মোহাম্মদ ওয়াহিদ রনি, অন্যদিকে শিল্পপতি ফজলে করিম খোকা। নেতৃত্ব দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ায় বখাটে যুবক ও কিশোর গ্যাংরা দাঙ্গা হাঙ্গামা চালাতে থাকে, এলাকার যেকোন তুচ্ছ ঘটনাকে বড় করে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতে প্রস্তুত থাকে, পাল্টাপাল্টি আক্রোশ লেগেই থাকে, স্থানীয়রা জানান বিভক্ত রাজনীতি এবং বিভক্ত নেতৃত্ব থেকে আমরা মুক্তি চাই। দুই পক্ষ মিলে যদি একত্রে সবাই চলে তাহলে আর এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না।
ঐ এলাকার দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য সৃষ্টি বন্ধে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম এগিয়ে আসেন, ৭ জুলাই শুক্রবার বিকেলে বিভক্ত রাজনীতি এবং গ্রুপিং বন্ধ করে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার জন্য শান্তি কমিটি গঠন করেন। হাতে হাত মিলিয়ে দুই গ্রুপের দূরত্ব দূর করে দেন প্রধান উপদেষ্টা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ১০,১১,ও ১২ নং ওয়ার্ডের নেতৃত্ব পর্যায়ের এবং মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গ, সকলের মতামত এবং পরামর্শ নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়। যেকোন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে সহায়তা সহ এই কমিটি নজরদারি রাখবে অপরাধ সংগঠিত হলে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের হাতে তুলে দেবে এই কমিটির সদস্যরা।
Leave a Reply