বকেয়া বেতন ও বাৎসরিক ছুটির টাকা পরিশোধের দাবিতে গাজীপুরের শ্রীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ডাচ বাংলা (এ এ ইয়াং) লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা।
রোববার( ২০ জুলাই) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার জৈনা বাজার ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে তারা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে কয়েক লাখ যাত্রী। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চেষ্টায় রাত পৌনে ১০টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সুত্র, কারখানার শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়,জৈনা এলাকায় অবস্থিত ডাচ বাংলা (এ এ ইয়াং) লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা গত জুন মাসের বকেয়া বেতন ও বাৎসরিক ছুটির টাকা পাওনা রয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই শ্রমিকরা তাদের পাওনাদি পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ একাধিকবার আশ্বাস দিয়েও শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করেনি। এতে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। রোববার সন্ধ্যার পর থেকেই ওইসব দাবি আদায়ে মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে করে বিক্ষোভ শুরু করে তারা। এসময় মহাসড়কের মাঝখানে অবস্থান করে হাজারো শ্রমিক। একপর্যায়ে অটোভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম দুর্ভোগে পড়েন ওই সড়কে চলাচলকারীরা। পরে থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে,একাধিক শ্রমিকরা জানান,রোববার সকালে শ্রমিকরা কারখানার ভিতরে অবস্থান নিয়ে এক মাসের বকেয়া বেতন সহ বাৎসরিক ছুটির টাকা পরিশোধের দাবি জানান। রাতের মধ্যে পরিশোধ করার শর্তে তারা কাজে অংশ নেন। তাই বেতন ও ছুটির টাকা পরিশোধ না করায় রাত পৌনে ৭ টায় ঢাকা- ময়মনসিংহ সড়কের উপর অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে।
ঘরে চাল-ডাল নেই এবং রুম ভাড়ার জন্য মালিকের নানা কথা শুনতে হয় জানিয়ে ওই কারখানায় কর্মরত আমেনা ও খোদেজা নামের ২জন নারী শ্রমিক বলেন,’ আমরা পেটের দায়ে কারখানায় চাকরি করি। আমাদের সন্তান ও পরিবার আছে। মাস শেষে পাওয়া বেতনের ওপরই সবারই জীবন নির্ভর করে। সেটা না দিলে আমরা চলবো কেমন করে..?
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজনে ডাচ বাংলা (এএ ইয়াং) লিমিটেড কারখানার জিএম জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ব্যস্ত ও পরে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন,’খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। আমি নিজে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের দাবীর বিষয়ে ফয়সালা আশ্বাস পেয়ে মহাসড়ক থেকে সরে যায় শ্রমিকরা। এখন যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’
Leave a Reply