দিনাজপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ(সিআইডি) এর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চরম অবহেলা, গাফিলাতি ও অদক্ষতার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি বরং গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ ও সাক্ষ্যগ্রহণে দেখা গেছে নানা অনিয়ম। সিআইডির তদন্ত কর্মকান্ড এতটাই ধীরগতি, বিশৃঙ্খল ও নিক্ষিপ্ত যে তদন্তকে এখন অনেকে প্রহশন ছাড়া আর কিছু বলছেন না। আসামীদের কাছ থেকে অর্থগ্রহণ করে তদন্ত বিকৃত করে আসামীদের নিজস্ব লোকদেরকে সাক্ষী বানিয়ে তদন্ত রিপোর্ট আদালতে পাঠিয়েছে।অভিযুক্ত এই সিআইডি কর্মকর্তা হলেন দিনাজপুরে কর্মরত ইন্সপেক্টর উত্তম কুমার রায় এবং অভিযোগকারী ব্যক্তি হলেন দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি গ্রামের জিকরুল হকের স্ত্রী তাজমা আক্তার লিলি।
ঘটনা, তদন্ত রিপোর্ট ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, দিনাজপুর আদালতে তাজমা আক্তার লিলি বাদী হয়ে ৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৩৬৫/৩৮৭/৫২১/৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন আব্দুল্যা আল মামুন, মকবুল হোসেন ও ছলিমুদ্দীন। আদালত মামলার সতত্যা যাছাইয়ের জন্যে তদন্তের দায়িত্ব দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়কে। অভিযোগে বাদীনী বলেন, ঘটনার সতত্যা যাছাই না করা, ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করা, বহিরাগত লোকের সাক্ষ্য নেয়া(যারা কিছুই জানে না), আসামীদের কাছে মোটা অংকের টাকা নেয়া, মামলাটি আপোষ-মিমাংশার জন্যে বাদীকে চাপ দেয়া, বাদীনীর কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করা সহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী এই পরিবারটি। বাদীপক্ষের অভিযোগে আরও জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের অধীনে মামলা হলেও বাদীনীর দাবি সিআইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার তদন্তে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে পারে নি। গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ ও সাক্ষ্য গ্রহণে দেখা গেছে নানা অনিয়ম।
বাদীপক্ষের সাক্ষীর মাধ্যমে জানা যায়, আসামী আব্দুল্যা আল মামুন বাদীনীর মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে এবং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ১৫ লাখ টাকার জাল হ্যান্ডনোট তৈরি করে মামলা করেন। তারা আরও বলেন, প্রকৃত সত্য ঘটনাকে চাপা দিয়ে ঘুষখোর এই কর্মকতৃা তদন্ত প্রতিবেদনে ধীরগতি এনে পুরো প্রক্রিয়াকে প্রহশণ মুলক তদন্ত হিসেবে ন্যায় বিচারের অপমান করেছেন। সিআইডির পক্ষ থেকে এমন ভূল ও অসামঞ্জশ্য রিপোর্ট আদালতে যাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার অসহায়ত্বের মাঝে দিনাতিপাত করছেন। ভুক্তভোগী পরিবার আও জানায়, মামলার কার্যক্রম অচল হয়ে পরার কারণে আসমীরা দাপটের স্বরে রাস্তায় আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমরা যেকোনো সময় তাদের আক্রমণের শিকার হতে পারি। আমাদের কিছু হলে এই দায়ভার সিআইডি উত্তম কে নিতে হবে। তারা পূণরায় এই মামলার তদন্ত করাতে চান।
সিআইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পেয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের দিনাজপুরে দায়িত্বরত এসএসপির সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, উত্তম কুমার আদালতে ভুল রিপোর্ট পাঠালে বাদী নারাজী দিবে তখন পুনরায় মামলার তদন্ত হবে। উত্তম রায়ের ঘুষ নেয়ার ব্যাপারে তিনি কোনো বক্তব্য রাখেনি। অন্যদিকে এ বিষয়ে সিআইডি ইন্সপেক্টর উত্তম রায়ে সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি তদন্ত করে যা পেয়েছি তাই আদালতে পাঠিয়েছি। ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি আমাদের এ প্রতিনিধি চায়ের দাওয়াত করেন। চায়ের টেবিলে পার্সোনালী কথা বলতে চান উত্তম কুমার।
Leave a Reply