1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
তিতাসে শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে জিম্মি করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ - দৈনিক আমার সময়

তিতাসে শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে জিম্মি করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ

মোঃ সাকিব হোসেইন, তিতাস (কুমিল্লা) 
    প্রকাশিত : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":1,"transform":2},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}
কুমিল্লার তিতাসে জায়গা খারিজের নামে ৭লাখ ৬০হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে জেলা শ্রমিক লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শরিফ মিয়াকে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে জিম্মি করে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভিটিকান্দি ইউপির হারাইকান্দি গ্রামে।
বুধবার (১৬ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,  গত জুলাই গনঅভুথ্যানের আগে জমি খারিজের জন্য জেলা শ্রমিকলীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক শরীফ মিয়ার কাছে যান একই গ্রামের বাসিন্দা মোসাম্মৎ চোসনেহের বেগম। সেই সুবাদে শরিফ মিয়াকে কয়েকবারে সর্বমোট ৭লাখ ৬০হাজার টাকা দেন চোসনেহের বেগম।
দীর্ঘদিন ধরে জমি খারিজের কাজটি বুজে না পেয়ে শরীফের কাছে একপর্যায় টাকা ফেরত চাইলে শরিফ তালবাহানা শুরু করলে পরবর্তীতে মোসাম্মৎ চোসনেহের বেগম বাদী হয়ে তিতাস থানায় শরিফ মিয়ার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরে বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে গিয়ে সমাধানের লক্ষ্যে দারস্থ হোন চোসনেহের। অভিযোগ শুনে স্থানীয় বৈছাআ’র নেতৃবৃন্দ হারাইকান্দি গ্রামে গিয়ে শ্রমিক লীগের নেতা শরিফ মিয়াকে উপরোক্ত অভিযোগের ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ৪লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন এবং সে টাকা তিনমাসের মধ্য দিয়ে দিবেন বলে স্বীকারোক্তি দেন।
শরিফ মিয়ার এমন স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।
তবে শরীফ মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও নির্যাতনসহ পিস্তল দিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় শরিফ মিয়াকে। অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রাণভয়ে এমন স্বীকারোক্তির বক্তব্য ও একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হোন শ্রমিক লীগের নেতা শরীফ মিয়া।
এবিষয়ে জেলা শ্রমিক লীগের নেতা শরিফ মিয়া’র বোন মর্জিনা অভিযোগ তুলে বলেন, আমার ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে জিম্মি করে স্ট্যাম্প নিয়ে ভিডিও করা হয়েছে। পিস্তল দিয়ে পুলিশে দিয়ে দিবে বলেও হুমকি দেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে গেলে আমাকে ও আমার বোনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন চোসনেহের ও তার লোকজন। আমরা বাড়িতে থাকলে হামলা করবে জানিয়ে হুমকিও দিয়ে গেছেন। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমরা এঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আবু সাঈদ আসিফ বলেন, আমাদের কাছে ভুক্তভোগী নারী এসে ঘটনাটি জানালে এবং সমাধানের জন্য আমাদের দারস্থ হলে আমরা শরীফকে তার গ্রামে গিয়ে ঘটনাটির বিষয়ে জিজ্ঞাস করি। শরীফ নানা তালবাহানার পর ৪লাখ ৮০হাজার টাকা নিয়েছেন এবং সেই টাকা তিনমাসের মধ্যে দিয়ে দিবেন বলে জানান। শরীফের স্বীকারোক্তির এ ভিডিওটি ফেইসবুকে আমার আইডি থেকে আপলোড করা রয়েছে।
পরে ডকুমেন্টস এর স্বার্থে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৪লাখ ৮০হাজার টাকা উল্লেখ্য করেই একটি স্ট্যাম্প করা হয়। স্ট্যাম্পে সে নিজ ইচ্ছায় স্বাক্ষর দিয়েছেন। তাকে কোন প্রকার জোর করা হয়নি। সেখানে আমি ছাড়াও আমাদের উপজেলা কমিটির আহবায়ক আশরাফ অভিক, কলাকান্দি ইউনিয়ন কমিটির আহবায়ক মোঃ বিল্লাল ও জেলা কমিটির সদস্য নুর মোহাম্মদসহ আরো দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দরাও উপস্থিত ছিল।
এছাড়াও ঘটনার সময় স্থানীয় দুই-তিনজন সাংবাদিক ভাইরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই শরীফ স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দেন। বিষয়টি সকলের সমন্বয়ে সমাধান করা হয়েছে যা অন্যদের জিজ্ঞাস করলেও জানতে পারবেন। এখন অভিযোগ তুললে কি আর করা যাবে? আমরা সমাধান করার চেষ্টা করেছি মাত্র। তারা দু’পক্ষ এখন না মানলে আইনের আশ্রয় নিয়ে সমাধান করুক।
ঘটনায় অভিযুক্ত মোসাঃ চোসনেহের বেগম বলেন, শরীফ আমাকে অসহায় পেয়ে আমার কাছ থেকে জমি খারিজের কথা বলে বিভিন্ন কায়দায় কয়েকবারে ৭লাখ ৬০হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে জমি খারিজ না করতে পারলে আমার টাকা ফেরত দিতে বললে শরীফ আমাকে হুমকি ধামকি দেন আমি থানায় শরীফের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ছাত্রদের কাছে গিয়ে ঘটনাটি জানাই।
পরে ছাত্ররা শরীফকে এবিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সে পুরো টাকার কথা স্বীকার না করলেও ৪লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন এবং ২০দিন পর ৮০হাজার ও বাকিটাকা ৩মাসের মধ্যে পরিশোধ করে দিবেন বলে স্বীকার করেন এবং ডকুমেন্টস হিসেবে তার স্বাক্ষরিত একটি স্ট্যাম্প দেন আমাকে।
শরীফ জমি খারিজ বাবদ লাষ্ট যখন ৮০হাজার টাকা নেয় সেই লেনদেনের একটি ভিডিও আছে আমার কাছে। তাকে জোরপূর্বক কোন কিছুই করানো হয়নি। সে মিথ্যা বলছে। কলাকান্দি বাজারের লোকজন ও এলাকাবাসীকে আপনি জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com