জামালপুরে বিসিআইসি ও বিএডিসির আওতাধীন ডিলারদের অনিয়ম ও প্রতিনিধিদের কারসাজিতে কৃত্রিম সার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সময়মতো সার না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে খোলা বাজার ও খুচরা দোকান থেকে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে তাদের, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, জামালপুর জেলায় বিসিআইসি ও বিএডিসির অধীনে মোট ২৬৬ জন বীজ ও সার ডিলার রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে—অধিকাংশ ডিলার নিজ নিজ নির্ধারিত ডিলার পয়েন্টে নিয়মিত দোকান পরিচালনা করছেন না। অনেক ডিলার অন্য উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি সার উত্তোলন ও বিক্রি করছেন।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের ইমান আলী, মেলান্দহের সাধুপুর এলাকার আকবর আলী, শ্যামপুরের শহিদুর, ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেন এবং বকশিগঞ্জের সাধুরপাড়ার আমিনুরসহ একাধিক ভুক্তভোগী কৃষকদেরঅভিযোগ, একই প্রতিনিধি একাধিক লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি সার উত্তোলন করে তা সরকার নির্ধারিত অধিক্ষেত্রের বাইরে বেশি দামে পাইকারি বিক্রি করছেন। ফলে ডিলার পয়েন্টগুলোতে পর্যাপ্ত সার পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে মেলান্দহ উপজেলার মেসার্স মিতালী ট্রেড , মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স রব্বানী এন্টারপ্রাইজ, ইসলামপুরের মা ট্রেডার্স, দেওয়ানগঞ্জের মতি এন্টারপ্রাইজ ও তোতা এন্টারপ্রাইজ এবং বকশিগঞ্জের শুভ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকরা অভিযোগ তুলে আরও জানান, কোথাও কোথাও অল্প পরিমাণ সার মিললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে ফসল রক্ষায় বাধ্য হয়ে বাজার থেকে চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে তাদের ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিলার বা তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আঃ রৌফ বলেন, “আমরা এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ডিলারদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তদন্ত শেষে নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কৃষিনির্ভর এই জেলায় সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত না হলে চলতি মৌসুমে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কৃষকদের দাবি—ডিলারদের অনিয়ম বন্ধ করে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।
Leave a Reply