চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় কোরাল রীফ প্রপার্টিজ লিমিটেডের একটি আবাসন প্রকল্প ঘিরে গুরুতর প্রতারণা, চুক্তি লঙ্ঘন ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকদের প্রাপ্য ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি, জাল কাগজপত্র ও স্বাক্ষর ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। শুধু চট্টগ্রাম নয়, কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রকল্পেও একই কৌশলে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আগ্রাবাদের আমানত খান সড়কের খান বাড়ির ১৬ হাজার ৫৩৩ বর্গফুট জমিতে ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য ৩০ জন ওয়ারিশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন কোরাল রীফ প্রপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রায় আট বছর পার হলেও প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। প্রকল্পে ৮৯টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়, যার ৫০ শতাংশ জমির মালিক এবং বাকি ৫০ শতাংশ ডেভেলপারের পাওয়ার কথা ছিল।
চুক্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা থাকলেও ২০২৪ সাল পর্যন্ত কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। এতে মামলার বাদী প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা পাওনার দাবি করেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের জুনে জমির মালিক সামিউল খান আদালতে মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ রয়েছে, কোরাল রীফ প্রপার্টিজ বারবার বৈঠকে ডাকা হলেও চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং অন্যান্য ভূমি মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মূল চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে তৃতীয় পক্ষের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি করতে থাকে। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে আপত্তি জানালে আগ্রাবাদ ভূমি অফিস নামজারি কার্যক্রম স্থগিত করে।
২০২৪ সালের ২৩ জুন এক বৈঠকে জমির মালিক সামিউল খান ও তার বাবা আমজাদ খানকে মারধর এবং ফ্ল্যাট বুঝে নিতে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও রয়েছে।
চট্টগ্রামের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের করা মামলার তদন্তে সিএমপির ডিবি বন্দর-পশ্চিম বিভাগ প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পায়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের মূল চুক্তির পাশাপাশি পরবর্তী সম্পূরক চুক্তিগুলোতে কয়েকজন জমির মালিকের স্বাক্ষর না থাকলেও তাদের নাম ব্যবহার করে ফ্ল্যাট ও সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া চুক্তিতে দোকানের উল্লেখ না থাকলেও ভবনে দোকান নির্মাণসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, কোরাল রীফ প্রপার্টিজ জমির মালিকদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করলেও তদন্তে তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং ক্ষতিপূরণ পরিশোধে গড়িমসি এবং চুক্তি ভঙ্গের বিষয়টি উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগী সামিউল খান অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ভবনের প্রায় প্রতিটি ফ্ল্যাটেই দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে কোরাল রীফ পরে লাপাত্তা হয়ে যায়। অনেক ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ তো দেয়ইনি, বরং পুরো প্রকল্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। তিনি আরও জানান, কক্সবাজারের একটি হোটেল প্রকল্পে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বলে তার বাবার কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সিডিএতে অভিযোগ জানানো হলে সংস্থাটি নোটিশ জারি করলেও পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে কোরাল রীফ প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply