চট্টগ্রাম নগরীর সড়কে যেন চলছে মৃত্যুর দৌরাত্ম্য। ব্যাটারি চালিত ভিটেক অটোরিকশা এখন বেপরোয়া গতিতে ছুটছে প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি— সবখানেই। লাইসেন্স নেই, প্রশিক্ষণ নেই, চালকের আসনে কিশোর; কিন্তু প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। ফলে প্রায়দিনই দুর্ঘটনা ঘটে, আর পরে দায় এড়িয়ে সবাই চুপ!
এই সড়ক বিশৃঙ্খলার করুণ শিকার হলো মাত্র ৫ বছরের শিশু তানজিন।
গত ২৪ নভেম্বর বিকেল ৪টায়, বন্দর থানাধীন ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওমর শাহ পাড়া এলাকায়, রাশেদ কোম্পানির একটি ভিটেক অটোরিকশা বেপরোয়া গতিতে এসে শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে চালক গাড়িটি ঘটনাস্থলে রেখে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আহত তানজিনের বাবা শাহাবুদ্দিন হাওলাদার, পেশায় একজন চায়ের দোকানি। বর্তমানে তার সন্তান চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশুটির বাবা বলেন, এভাবে গাড়ি চালিয়ে শিশুকে মেরে ফেলার মতো অবস্থা করেছে, তারপর গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। এটা কি আইন-শৃঙ্খলা? আমি মামলা করবো, এমন গাড়ির মালিক-চালকদের শাস্তি চাই।
ঘটনার পর থেকে শিশুটির চিকিৎসায় বেশ মোটা অঙ্কের খরচ তৈরি হয়েছে, যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ছোট ব্যবসায়ী বাবা। সন্তানের জীবন বাঁচাতে সব কিছু বিক্রি করে হলেও লড়াই চালিয়ে যেতে চান তিনি। জনমনে ও এলাকাবাসীর জোরালো প্রশ্ন, অলিগলি থেকে নগরের প্রধান সড়ক— কোথায় প্রশাসনের নজরদারি? কেন কিশোরদের হাতে গাড়ি তুলে দেওয়া হচ্ছে?
দুর্ঘটনার পর গাড়ি রেখে পালিয়ে যাওয়া— এর দায় নেবে কে? আইন কি শুধু কাগজে? বাস্তবে এর প্রয়োগ হবে কবে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন— লাইসেন্সবিহীন, প্রশিক্ষণহীন ও নিয়ন্ত্রণহীন ভিটেক বন্ধ না হলে নগরবাসী প্রতিদিনই নতুন নতুন দুর্ঘটনার মুখোমুখি হবে। এখনই প্রয়োজন কঠোর ব্যবস্থা,
কিশোর চালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে,
অবৈধ ভিটেক জব্দ ও মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে, সড়কের অলিগলি–সবখানেই নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে, দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়া চালকদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। নইলে এই শহরের রাস্তায় আরও শিশু, আরও প্রাণ হারাবে, আরও পরিবার রক্ত-চোখের কান্নায় ভাসবে। জীবন বাঁচুক, আইন জাগুক— সড়কে ফিরে আসুক শৃঙ্খলা। নিষ্ক্রিয়তা নয়— এখনই চাই কঠোর পদক্ষেপ!
Leave a Reply