গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, হামলা ও প্রাণহানির ঘটনার পর জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর জনজীবন স্বাভাবিক করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাত ১২টার দিকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মিডিয়া সেলে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার পর কারফিউ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ জুলাই, যখন এনসিপির ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পৌর পার্কে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে সমাবেশের মঞ্চে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে হামলা চালানো হয়। এনসিপির অভিযোগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা মঞ্চের সাউন্ড বক্স, মাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সমাবেশ শেষে এনসিপির নেতাকর্মীরা মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা হলে তাদের গাড়িবহরে আবারও হামলা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দীপ্ত সাহা (২৫), রমজান কাজী (১৮), সোহেল মোল্লা (৪১), ইমন (২৪) এবং আরেকজন নিহত হন। আহত হন প্রায় অর্ধশতাধিক, যার মধ্যে ৪৫ জন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক রয়েছেন। 
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন প্রথমে ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২২ ঘণ্টার কারফিউ ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় দফায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১১টা পর্যন্ত কারফিউ চলে। এ সময় দুপুর ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা কারফিউ শিথিল ছিল। তৃতীয় দফায় শুক্রবার রাত ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বহাল থাকে।
এনসিপি দাবি করেছে, এই হামলা পরিকল্পিত ছিল এবং তাদের শীর্ষ নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয়। তারা প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ৪৭৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২৫ জনের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
Leave a Reply