1. admin@gmail.com : দৈনিক আমার সময় : দৈনিক আমার সময়
  2. admin@dailyamarsomoy.com : admin :
আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নিয়ে নতুন রূপে প্রস্তুত কক্সবাজার বিমানবন্দর, অক্টোবরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর অপেক্ষা - দৈনিক আমার সময়

আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নিয়ে নতুন রূপে প্রস্তুত কক্সবাজার বিমানবন্দর, অক্টোবরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর অপেক্ষা

দিদারুল আলম সিকদার,  কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
    প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রতি বছরে ২০ লাখ যাত্রী সেবায় নতুন টার্মিনাল চালু হচ্ছে আজ-আন্তর্জাতিক বিমান উড়ানোর অপেক্ষায় কক্সবাজার বিমানবন্দর।
এদিকে রানওয়ে প্রস্তুত, আধুনিক টার্মিনালও প্রস্তুত। অবকাঠামোর বড় অংশের কাজ শেষ হলেও সামনে রয়েছে আরেক চ্যালেঞ্জ-আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট এবং পর্যাপ্ত যাত্রী নিশ্চিত করা।
সমুদ্রের বুক চিরে রানওয়ে-আর সেই রানওয়েতেই এবার নামবে বড় আকারের আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ। দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে ও আধুনিক আন্তর্জাতিক টার্মিনাল নিয়ে নতুন রূপে প্রস্তুত কক্সবাজার বিমানবন্দর। আগামী অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর অপেক্ষা। কিন্তু তার আগে আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষামূলক চালু হচ্ছে আধুনিক আন্তর্জাতিক টার্মিনাল।
হাজার কোটি টাকার এই অবকাঠামো কক্সবাজারের আকাশপথের যোগাযোগ, পর্যটন ও অর্থনীতিতে কতটা পরিবর্তন আনবে-নজর এখন সেদিকেই।
চোখজুড়ানো নীল দিগন্ত আর বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি। রানওয়ের শেষপ্রান্ত যেন মিশে গেছে সমুদ্রের সঙ্গে। এখানেই আগামী অক্টোবর থেকে বড় আকারের বিদেশি উড়োজাহাজ ওঠানামার পরিকল্পনা।
সমুদ্রের বুক থেকে জমি উদ্ধার করে সম্প্রসারণ করা হয়েছে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে। বিদ্যমান অংশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রানওয়ের মোট দৈর্ঘ্য এখন ১০ হাজার ৭০০ ফুট। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফুট সমুদ্রের ওপর ব্লক বসিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।
নতুন এই রানওয়ের ফলে বড় আকারের ওয়াইড-বডি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ অবতরণের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে উন্নত করা হয়েছে রানওয়ে ও এয়ারফিল্ড লাইটিং ব্যবস্থা। সমুদ্রের ওপরের অংশেও স্থাপন করা হয়েছে প্রয়োজনীয় লাইটিং অবকাঠামো। রানওয়েটিকে ক্যাটাগরি-২ অপারেশনের উপযোগী করার কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর এম. মোশাররফ হোসেন বলেন, বিদ্যমান রানওয়ের ওপর অ্যাসফাল্টের ওভারলে দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। এক্সটেনশনসহ মোট ১০ হাজার ৭০০ ফুট রানওয়ের নির্মাণকাজও সম্পন্ন। রানওয়ে, লাইটিং ও সংশ্লিষ্ট সব কাজ শেষ হওয়ায় এটি এখন উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত।
কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলেও কারিগরি সীমাবদ্ধতায় তা স্থায়ী হয়নি। এবার বড় পরিসরের অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক অপারেশনের প্রস্তুতি চলছে।
রানওয়ের পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটারের আধুনিক আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল। যাত্রী ও লাগেজ নিরাপত্তায় রয়েছে সাতটি স্ক্যানার, আধুনিক মেটাল ডিটেকশন ব্যবস্থা এবং হোল্ড ব্যাগেজের জন্য আলাদা স্ক্যানিং সুবিধা। যাত্রীদের দ্রুত সেবা দিতে রয়েছে ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার ও ১০টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক। লাগেজ সংগ্রহের জন্য রয়েছে দুটি আধুনিক ব্যাগেজ ক্লেইম বেল্ট।
এছাড়া যাত্রীদের চলাচলের সুবিধায় চারটি এসকেলেটর ও ছয়টি লিফট স্থাপন করা হয়েছে। টার্মিনালে রয়েছে লাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম, বোর্ডিং ব্রিজসহ বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম।
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল প্রজেক্টের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো. নুর নবী বলেন, টার্মিনালে হোল্ড ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের জন্য চারটি এবং কেবিন ব্যাগেজের জন্য তিনটি স্ক্যানার রয়েছে। সিকিউরিটি কন্ট্রোল এরিয়ায় রয়েছে হোল্ড ব্যাগেজের সেকেন্ডারি স্ক্যানিং ব্যবস্থা। পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক মেটাল ডিটেকশন ও ব্যাগেজ কন্ট্রোল সিস্টেম। পাসপোর্ট কন্ট্রোল ও ইমিগ্রেশন এলাকাতেও রয়েছে প্রয়োজনীয় স্ক্যানিং সুবিধা।
যাত্রীসেবার পাশাপাশি পুরো টার্মিনাল ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে বিদেশি বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। এসব সরঞ্জামের টেস্টিং ও কমিশনিংয়ের কাজও শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে বেবিচক।
সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ—বেবিচকের সাবস্টেশন ইঞ্জিনিয়ার মো. সোহেল রানা বলেন, প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ যাত্রী পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় বিদেশি সরঞ্জামও স্থাপন করা হয়েছে। লাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম, বোর্ডিং ব্রিজ ও ব্যাগেজ বেল্টসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির টেস্টিং ও কমিশনিংও সম্পন্ন হয়েছে। এখন এটি যাত্রীসেবা চালুর জন্য প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে কক্সবাজারের পর্যটন খাতের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে শুধু বিদেশি পর্যটকই আকৃষ্ট হবে না, কক্সবাজারের অর্থনীতিতেও নতুন গতি তৈরি হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম হয়ে বিদেশে পাঠানো শুঁটকি, সবজি ও অন্যান্য পণ্য কক্সবাজার থেকেই মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে সরাসরি পাঠানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তার মতে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট ও রিফুয়েলিং সুবিধা চালু করা গেলে রাজস্ব আয়ের নতুন ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে। তবে এজন্য দ্রুত কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, কার্গো ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিক সুবিধা ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।
কক্সবাজার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়; আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এখানে জনবলও রয়েছে। যেহেতু রানওয়ে এবং নতুন আধুনিক টার্মিনাল সবকিছু ঠিক আছে, সেহেতু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের সেবা দিতে কোন সমস্যা হবে না।
রানওয়ে প্রস্তুত, আধুনিক টার্মিনালও প্রস্তুত। অবকাঠামোর বড় অংশের কাজ শেষ হলেও সামনে রয়েছে আরেক চ্যালেঞ্জ-আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট এবং পর্যাপ্ত যাত্রী নিশ্চিত করা।
হাজার কোটি টাকার এই অবকাঠামো কক্সবাজারের পর্যটন, যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে-আগামী দিনের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেই মিলবে তার উত্তর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
© All rights reserved © dailyamarsomoy.com