হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন রংপুরের আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে ভাড়া নির্ধারণ না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ৫ টাকা কেজি হারে ভাড়া পরিশোধ করে হিমাগার থেকে আলু বের করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রংপুর জেলা আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমানের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতাকর্মীরা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এমএন আলমগীর বাদশার কাছে স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে গঠিত সুপারিশ কমিটি রংপুরের ছয়টি হিমাগার সরেজমিনে পরিদর্শন করে। এ সময় হিমাগার মালিকরা আলু সংরক্ষণে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৩ টাকা ৯৭ পয়সা থেকে সর্বনিম্ন ২ টাকা ৯৮ পয়সা পর্যন্ত খরচের কথা জানান।
চাষী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হিমাগারের জমির মূল্য, স্থাপনা নির্মাণ ব্যয়, ব্যাংক ঋণ ও সুদের হিসাব অন্তর্ভুক্ত করার জন্য হিমাগার মালিকরা সময় চেয়েছিলেন। এ কারণে সুপারিশ কমিটির সভার রেজুলেশনে তারা স্বাক্ষর করেননি। পরে তাদের স্বাক্ষর ছাড়াই সুপারিশটি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা বলেন, আলু সংরক্ষণের মৌসুমের এক-তৃতীয়াংশ সময় ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। তাই দ্রুত হিমাগার ভাড়া নির্ধারণ করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
তারা ঘোষণা দেন, আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে রংপুর জেলার হিমাগার ভাড়া নির্ধারণ করা না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে ৫ টাকা কেজি হারে ভাড়া পরিশোধ করে হিমাগার থেকে আলু বের করে নেওয়া হবে।
এ সময় কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে তার দায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরকে নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ করে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় যৌক্তিক হিমাগার ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply