চট্টগ্রাম মহানগরে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। আধুনিক প্রযুক্তি, সাইবার ট্র্যাকিং এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে সিএমপির বিভিন্ন ইউনিট ও থানা পুলিশ ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক হারানো ও চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত মোবাইল হস্তান্তরের ঘটনাগুলো নগরবাসীর মাঝেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের হারানো মোবাইল দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারে সিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের তৎপরতা ইতোমধ্যে রেকর্ডস্বরূপ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ তাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসম্বলিত মোবাইল ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে এই সফলতার মাঝেই নগরীর কয়েকটি থানা ঘিরে উঠেছে ভিন্নধর্মী অভিযোগ। ভুক্তভোগীদের দাবি, থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর মোবাইল উদ্ধারের পুরো প্রক্রিয়ায় কিছু ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, মোবাইল উদ্ধারের নামে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ দাবি করা হয় এবং অনেক সময় টাকা দেওয়ার পরই উদ্ধারকৃত মোবাইল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কোতোয়ালী, ইপিজেড,পতেঙ্গা,বন্দর,
হালিশহরসহ নগরীর একাধিক থানা এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, প্রথমদিকে পুলিশ সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে খরচ লাগবে, ট্র্যাকিং করতে ব্যয় আছে কিংবা লোক লাগানো হয়েছে, এমন নানা কথার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হয়। অনেকেই নিরুপায় হয়ে টাকা দিতে বাধ্য হন।
এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোবাইল হারিয়ে থানায় গেলাম সহায়তার আশায়। কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে এমন টাকা গুনতে হয়েছে যে মনে হয়েছে গরু বিক্রি করে ছাগল উদ্ধার করছি। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের জন্য এ পরিস্থিতি বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করছে। কষ্টার্জিত অর্থে কেনা মোবাইল হারানোর মানসিক চাপের পাশাপাশি উদ্ধারের নামে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। সচেতন মহলের মতে, হারানো মোবাইল উদ্ধার একটি নাগরিক অধিকারভিত্তিক সেবা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণকে সহযোগিতা করার কথা থাকলেও, কোথাও যদি অনৈতিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা পুরো সেবাব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মোবাইল উদ্ধারের ক্ষেত্রে অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ কিংবা আইনি বিধান নেই। তিনি বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য মোবাইল উদ্ধারের নামে টাকা নিতে পারেন না। যদি কোনো ভুক্তভোগী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেন, তাহলে তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ বিভাগে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হয়। অভিযোগের সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এমন নজির নেই। নগরবাসীর দাবি, চট্টগ্রাম মহানগরের প্রতিটি থানায় মোবাইল হারানো সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ, ট্র্যাকিং ও উদ্ধারে একটি স্বচ্ছ, নির্ধারিত এবং জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একদিকে যেমন সিএমপি হারানো মোবাইল উদ্ধারে প্রশংসনীয় সাফল্য দেখাচ্ছে, অন্যদিকে কিছু অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা দ্রুত বন্ধ করা জরুরি। কারণ নাগরিক সেবার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রাখতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই।
Leave a Reply